সম্ভাব্য বোমা হামলা হুমকির কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া পর নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পুলিশ ক্রাইস্টচার্চের ফিলিপসটাউন এলাকার রাস্তাগুলো ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর ক্রু-রা ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পুলিশ, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের কর্মকর্তারা ওই এলাকার একটি ফাঁকা বাড়িতে সম্ভাব্য বিস্ফোরক বস্তুসহ একটি প্যাকেট পেয়েছে।

বিবৃতিতে ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ কমান্ডার সুপারইনটেনডেন্ট জন প্রাইস বলেছেন, “ক্রাইস্টচার্চের খালি একটি বাড়িতে সম্ভাব্য বিস্ফোরক বস্তু ও গুলিসহ একটি প্যাকেট খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।”

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ওই প্যাকেটটি নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে এবং এবং এ ঘটনায় ক্রাইস্টচার্চের ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

“৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন সে ঘটনা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছে,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চে বোমা হামলার হুমকি I+ঘটনা শেষে পুলিশের ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়। ওই এলাকায় একটি উড্ডয়ন নিষিদ্ধ জোনও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

গত ১৫ মার্চ, শুক্রবারে জুম্মার নামাজ চলার সময় এই শহরটির দুটি মসজিদে এক কট্টরপন্থি বর্ণবাদীর বন্দুক হামলায় ৫০ জন নিহত ও কয়েজ ডজন লোক আহত হয়েছিল। তারপর থেকে সতর্কাবস্থায় রয়েছে নিউ জিল্যান্ডের পুলিশ।

মঙ্গলবারের ঘটনাস্থল লিনউড মসজিদ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও নিউ জিল্যান্ডের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বোমা হামলার হুমকির কথা বলা হয়েছে।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, ‘একটি বিস্ফোরক বস্তুর হুমকির বিষয়ে’ পুলিশকে ডাকা হয়েছিল।

সেইন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুলিশের অনুরোধে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল কিন্তু কোনো রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়নি।

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্টের (২৮) (যাকে শ্বেত বর্ণবাদী বলে মনে করা হচ্ছে) বিরুদ্ধে ৫০টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই হামলার ঘটনা নিউ জিল্যান্ডকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করতে দেশটির সরকারকে বাধ্য করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য