মো: ইউসুফ আলী, আটোয়ারী,(পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ভূমি অফিসের কর্মচারী কর্তৃক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান ঘাটের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তথ্য মতে , উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের দোহসুহ মাছুয়ারপাড়া এলাকার শ্মশানের জমি একই এলাকার জনৈক উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী ওহাব আলী জবর দখলের চেষ্টা করছে। শ্মশানের জমির তপশীলঃ জেলা: পঞ্চগড়, থানা: আটোয়ারী, মৌজা: দোহসুহ, জে.এল নং: ৫২, খতিয়ান নং : ৩৬, ৭৭, দাগ নং: ১২৫৭ ও ১২৫৮। মোট দুই দাগে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ২৫.৫০ শতাংশ জমি বিরোধীয়।

ওহাব আলী উক্ত তপশীল বর্ণিত শ্মশানের জমি মাত্র একজন ওয়ারিশের নিকট একআনা খরিদ করে ৪ জন ওয়ারিশের জমি জবর দখলের চেষ্টা করছেন। বিরোধীয় জমি ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের শালিশ বিচারের সিদ্ধান্ত সহ উপজেলা পর্যায়ের শালিশ বৈঠকে বিরোধ নিস্পত্তির সিদ্ধান্ত ওহাব আলী তাৎক্ষনিক মেনে নিলেও পরে তা প্রত্যাক্ষান করেন।

সরেজমিনে গিয়ে শ্মশান কমিটির সাথে যোগাযোগ করা হলে কমিটির সভাপতি অভিনাশ চন্দ্র রায় বলেন, ওহাব আলী একজন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী। আমরা সংখ্যা লঘু হওয়ায় প্রায় সময় আমাদেরকে বিভিন্ন হুম্কি ধাম্কি দিয়ে দাবায় রাখার চেষ্টা করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বলরাম বাবু বলেন, আমি বুড়ো হয়ে গেছি। আমার জানামতে দোহসুহ বানপাড়া শ্মশান ঘাট অনেক আগের। আমাদের পুর্ব পুরুষরা এই শ্মশান ব্যবহার করেছে, আমরাও ব্যবহার করছি।

এই গ্রামের মহেশ চন্দ্র, নবরাম বর্মন ও কুশরাম বর্মন শ্মশান ঘাটের নামে ২৫ শতক জমি দান করেছেন। কমিটির সদস্য নন্দ অধিকারী ও অলীন চন্দ্র বর্মন বলেন, সম্প্রতি একটি লাশ শ্মশানে নিয়ে গেলে ওহাব আলী বাধা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ দাহ করা হয়। শ্মশান কমিটির লোকজন বলেন, ওহাব আলী অর্থের দাপটে আমাদের শ্মশান ঘাট পর্যন্ত ক্রয় করে দখলের চেষ্টা করছে। ধারনা হচ্ছে ওহাব আলী আমাদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করছে। শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে এব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দাখিল করে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অনুলিপি প্রেরন করা হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী ওহাব আলী বলেন, জমি আমার খরিদ করা। খরিদকৃত জমি দখল করতে গেলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাধা সৃষ্টি করে। আমার খরিদকৃত জমি তারা শ্মশানঘাট বলে দাবী করে। জমি নিয়ে একাধীকবার ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল ঠিকই কিন্তু বৈঠকে কোন সমাধান হয়নি। আমি খরিদকৃত জমির কাগজপত্র দিয়ে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের রায় আমি মেনে নিব।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা বলেন, অভিযোগের কপি পেয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কেহ কাহাকেও ছাড় দিতে রাজি নহে। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোন মহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য