রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্য ভেঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসন ছাড়ছেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো।

মঙ্গলবার তিনি সিংহাসন ছাড়ার পর পহেলা মে, বুধবার নতুন সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব দিবেন তার ছেলে নারুহিতো; আর ওই দিন থেকে ৩১ বছরের হেইসেই যুগের অবসানের পর রেইওয়া বর্ষ গণনা শুরু করবে জাপানিরা।

ইতোমধ্যে সম্রাটের দায়িত্ব হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জাপান সরকার।

তিন দশক ধরে সম্রাটের দায়িত্ব পালন করা আকিহিতোই জাপানের প্রথম সম্রাট যিনি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে অবসরে যাচ্ছেন। এতে জাপানের রাজ পরিবারের ঐতিহ্যে কিছুটা হলেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগলো বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

সম্রাটের দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষ্যে গত ২৭ এপ্রিল থেকে জাপানে ১০ দিন ব্যাপী সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। এতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছুটি পেয়েছে জাপানিরা।

সম্রাটের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা এলো যেভাবে

২০১৬ সালের ৮ অগাস্ট টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিরল ভাষণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার ইঙ্গিত দেন সম্রাট আকিহিতো। বয়সের কারণে নিজ দায়িত্ব পালনে অক্ষম বলে এ সময় ঘোষণা করেন তিনি।

রাষ্ট্রের সকল কাজ নির্বিঘ্নে চালতে সম্রাটের প্রতীকি দায়িত্ব পালন করাও তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে এ সময় জানান তিনি।

তবে জাপানের সংবিধানে সম্রাটের ‘আবডেকশন’ বা পদত্যাগ বিষয় উল্লেখ না থাকায় সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কায় তখন পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেননি তিনি।

জাপানের সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সম্রাটের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নতুন সম্রাট দায়িত্ব নিতে পারেন না।

সেই সময় টেলিভিশন ভাষণের ১০ মিনিট আগে ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় আকিহিতো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকেতে বলেছিলেন, “আমি খুবই আনন্দিত যে বর্তমানে আশি বছর পেরিয়েছি। এই বয়সে শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমার দুটি অস্ত্রোপচারও হয়েছে।

“এ অবস্থায় আমার পক্ষে রাজকীয় দায়িত্ব পালন করা দুরূহ বটে।”

সম্রাটের স্বেচ্ছা অবসরে সংসদের বিল

জাপানের বিদ্যমান আইনে সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগ করার বিধান না থাকায় দেশটির আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সরকার নতুন আইন করে সম্রাট আকিহিতোর সিংহাসন ছাড়ার সুযোগ করে দেয়।

বিলটি সংসদে ওঠার পর, সংসদের বিরোধীদল সম্রাটদের সিংহাসন ছাড়ার আইনটি অন্যন্য সম্রাটের ক্ষেত্রেও যেন কার্যকর করা যায় সেই দাবি তোলে। কিন্তু সরকারি সাংসদরা তার বিরোধিতা করলে বিলটি অনুমোদনের পর বিরোধীদলীয় সাংসদরা ওয়াক আউট করেন।

এভাবে নানা আলোচনার পর দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সম্রাট আকিহিতোর স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছাড়ার বিল পাশ হয়ে আইন হয়।

অনুমোদিত ওই বিলে বলা হয়, কেবলমাত্র আইন আকারে বিল প্রকাশের পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে সম্রাট আকিহিতো স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছাড়তে পারবেন এবং একই সঙ্গে রানীও তার কর্তৃত্ব হারাবেন।

এরপর সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত এক বিশেষ কমিটির সভায় সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগের দিনক্ষণ ঠিক হয়।

২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বর্তমান সম্রাট আকিহিতোর শেষ দিন হবে, ২০১৮ সালে আবে সরকার এ ঘোষণা দেয়।

রাজকীয় আইন অনুযায়ী কেবলমাত্র সম্রাটের রক্তবহন করে এমন পুরুষ সদস্যরা পরবর্তী সম্রাট হওয়ার সুযোগ পায়। আর সেই অনুযায়ী ক্ষমতা পাচ্ছেনআকিহিতোর ৫৫ বছর বয়সী ছেলে যুবরাজ নারুহিতো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য