দিনাজপুর জেলার বুক চিরে প্রবাহিত পূনর্ভবা নদীর উপর দিয়ে একসময় ছুটে চলত বড় বড় নৌকার বহর। ষাইট-এর দশকের ভাটিয়ালী গানের সুরে পাল তোলা নৌকা নিয়ে ছুটে চলা ভরা যৌবনা উত্তাল পূনর্ভবা নদীর বুকে এখন দোল খাচ্ছে সবুজ ধানক্ষেত। খুব বেশি আগের কথা নয়। ষাইট-এর দশক জুড়েই ভরা যৌবনা ছিল পূনর্ভবা নদী।

আশির দশক থেকে ক্রমেই যৌবন হারাতে থাকে এ নদী। এখন এসে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে নদীটির আর হারানোর কিছুই নেই। সেই অতীতে পূনর্ভবা নদীতে ঢেউয়ের তালে তালে চলাচল করতো অসংখ্য নৌকা। ভাটিয়ালী আর পল্লীগীতি গানের সুরে মাঝিরা নৌকা নিয়ে ছুটে চলতো কেন্দ্রিক ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে।

এ নদীকে ঘিরে বিভিন্ন স্তানে গড়ে ওঠা বড় বড় হাটবাজার সমূহে ব্যবসার জন্য ধান, পাট, আলু, বেগুন, সরিষা, কালাই ও গমসহ নান কৃষিপণ্য নিয়ে সওদাগররা নৌকার পাল তুলে মাঝিরা ছুটে চলতেন। অসংখ্য মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবন জীবিকার রাস্তা খুঁজে পেয়েছিল। নদীর পানি দিয়ে কৃষক দুই পাড়ের উর্বরা জমিতে ফসল ফলাতো। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য।

জীবিকার সন্দানে নদী সংলগ্ন ও আশপাশ এলাকার অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতী গড়ে উঠেছিল। ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এ নদী। মাছ পাওয়া যেত সারা বছর। জীবিকার জন্য মাছের আশায় জেলেরা রাতদিন ডিঙ্গি নৌকায় জাল-দড়ি নিয়ে চোষে বেড়াতেন নদীর এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ধরা পড়তো প্রচুর মাছ। সেই সোনালি দিন শেষে হয়ে গেছে অনেক আগেই।

সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে সেই ভরা যৌবনা পূনর্ভবা নদী এখন মরাখালে পরিণত হওয়ায় পূনর্ভবা কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য হাটবাজার এখন হয়েছে বিরাণ অঞ্চল, কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধূ ধূ প্রান্তরে, জেলে পরিবারগুলো হয়ে গেছে বিলীন আর সে সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে প্রায় বন্ধ। এসবই এখন কালের সাক্ষী।

ঐতিহ্যের দিক থেকে এ জেলার নদ-নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পূনর্ভবা নদী। ভৌগোলিকভাবে নদীটি ছিল চমৎকার অবস্থানে। নদীটি কোনদিন খনন ও ড্রেজিং করা হয়নি এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সরকারের নজর না দেয়ার সুযোগে এক শ্রেণির দখলবাজ নদীটির অনেক স্থান দখলে নিয়ে খুশিমত ভরাট করে ফেলেছে। কেউ কেউ বর্জ্য ফেলে দূষণ ও ভরাট অব্যাহত রেখেছে। অনেকে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র থেকে বালু উত্তোলন ও পাড় কেটে মাটি বিক্রিয় প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

অপরদিকে পাানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা সরকারের নিকট নদী খনন ও ড্রেজিং এর জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্র পাঠিয়েছি। শীঘ্রই নদী খননের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য