শনিবার রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র উদ্যোগে রংপুর জেলায় আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার মূল্য যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে রংপুর চেম্বার নেতৃবৃন্দের সাথে ভোগ্যপণ্য সংশ্লিষ্ট রংপুরের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীগণের সাথে এক মত বিনিময় সভা রংপুর চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন এর সভাপতিত্বে রংপুর চেম্বার বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রংপুর চেম্বারের আভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ, ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট ও ই-টেন্ডারিং বিষয়ক উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ও রংপুর চেম্বারের পরিচালক মোঃ জুলফিকার আজিজ খান ভুট্টো, নবাবগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর চেম্বারের সাবেক পরিচালক মোঃ আকবর আলী, বিশিষ্ট ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী মোঃ আজিজুল ইসলাম মুকুল, বিশিষ্ট ডাল ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সাদেক হোসেন মুন্না, ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট চিনি ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ময়েন উদ্দিন, বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোঁরা মালিক সমিতি, রংপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ খোকন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হামিদুল ইসলাম, সাতমাথা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌফিকুর রহমান (তপু), মাহিগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ পারভেজ টিটু, রংপুর শহর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের, রংপুর শহর ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুহাঃ মাহবুবার রহমান (শিপন), সিটি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সহ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, রংপুর জেলা বেকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ,কে,এম ফয়জুল কবির লিটন, রংপুর মিনি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি মোঃ এরশাদ হোসেন, রংপুর চেম্বারের পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা, আলহাজ¦ এমদাদুল হোসেন ও প্রণয় বণিক প্রমুখ।

সভায় বক্তারা অযথা পুলিশি হয়রানি, মোবাইল কোর্ট, পরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধ ও পণ্য আমদানি এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যদি অনুকুলে থাকে তাহলে আসন্ন রমজানে রংপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে মতামত ব্যক্ত করেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে ভোজ্য তেলের বাজার অতীতের চেয়ে অনেক কম, খেজুর, ছোলা ও চিনির দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মিল মালিকদের নিকট থেকে পণ্য আমদানি এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি নিরসনের ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চান ব্যবসায়ীরা। সভায় মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় গরুর আমদানি কমার কারনে গরুর মাংসের মূল্য কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা পাইকারী ও খুচরা বাজারের মূল্যের তারতম্য কমিয়ে আনার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে মেট্রো ট্রাফিক পুলিশের অযথা হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ পণ্য, লোড-আনলোডের জন্য স্থান নির্ধারণ, মটর সাইকেল আরোহীদের অযথা নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ, যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অহেতুক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধসহ ফুটপাত দখল, পরিবহণ শ্রমিক চাঁদাবাজি বন্ধ, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের উৎপাতসহ সব ধরনের বাধা অপসারণের ব্যাপারে রংপুর চেম্বারের মাধ্যমে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সমূহের মূল্য তালিকা সংশ্লিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্রে প্রদর্শনের জন্য সম্মতি প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন বলেন, বর্তমানে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আছে। পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি যদি সঠিক সময়ে ব্যবসায়ীদের নিকট পণ্য সরবরাহ করা যায় তাহলে আসন্ন রমজান মাসে রংপুর জেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার মূল্য বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা বান্ধব, ব্যবসায়ীদের সাথে পরামর্শ করে সরকার সব রকম সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি পাইকারী ও খুচরা বাজারে মূল্যের তারতম্য কমিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা পণ্য সরবরাহে যাতে কোন ধরনের বাধা বা সমস্যার সম্মুখীন না হন সেদিকে প্রশাসনকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, ভেজাল ও ধুলোবালিমুক্ত ইফতার সামগ্রী বিক্রয় এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

মত বিনিময় সভায় রংপুর চেম্বারের পরিচালকবৃন্দ, রংপুর শহরের সর্বস্তরের নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহকারী, পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীগণসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য