আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বিভিন্ন স্থানের নানা পয়েন্টে চিহ্নিত বালু খেকোদের অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব যেন থেমে নেই। প্রশাসনের কড়া দৃষ্টিসহ অব্যাহত তদারকিতে মাঝে মধ্যে একটু-আধটু বন্ধ থাকলেও পুনরায় তার আগের স্থানেই ফিরে যায়।

এ যেন কোন লুকোচুরি খেলা। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে বুধবার বিকেলে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের নলেয়া নদীতে গিয়ে দেখা যায় বালু উত্তোলনের এমন চিত্র। ইউপির ডাকেরপাড়া গ্রামের আরিফ নামীয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নলেয়া নদী থেকে স্যালোমেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছেন।

অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরিফ জানান, আমি অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করি। কিন্তু সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধি ছাড়াও স্তর ও ক্ষেত্র বিশেষে প্রশাসনিক ভাবে কাউকে না কাউকে মিটিয়েই এসব করে থাকি। শুধু তাই নয়! পৃথিবী যতদিন থাকবে-নলেয়া নদী যতদিন থাকবে থেমে-থেমে হলেও বালু উত্তোলন চলবেই।

কারণ হিসেবে আরিফ বলেন আমরা বালু উত্তোলন করছি জন্যই অত্রালাকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন ইট-সিমেন্টের বসতবাড়ী নির্মাণে ব্যর্থ হতেন। সাশ্রয়-কম এবং সাধ ও সাধ্যের মধ্যে স্থানীয়রা বসতবাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন।

এদিকে; নদী তীরবর্তী ফসলী জমির মালিকরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন। বালু উত্তোলন করায় জমিতে থাকা শ্রেণীবিন্যাসে গাছপালা ও বিভিন্ন ফসলাদিসহ সমতল ভূমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে ওইসব জমির মালিকরা হচ্ছেন অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখিন। বালু উত্তোলনকারীরা শক্তিশালী সংঘবদ্ধ হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কথা বললেও তেমন কোন কাজে আসছেনা।

নিরুপায় ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা একান্ত বাধ্য হয়েই দিনের পরে মাস বছর জুড়ে মুখবুজে এসব অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন। তারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা বালুখেকোদের বিরুদ্ধে পারছেন না কিছু বলতে-পারছেন না এসব অনৈতিক অত্যাচার সইতে।

ভূক্তভোগি মহল এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তির যথাযথ জরুরি মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য