জুয়ার আসরের খোঁজ পেলেই টাকা নিয়ে ছুটে যেত রেজ্জাকুল ইসলাম (৩০)। জুয়া খেলায় হারজিত থাকলেও তাকে হারোনো খুবই কষ্টকর ছিল। এই দক্ষ জুয়াড়ি হওয়াই তার কাল হয়েছে। এ কারনেই জীবন দিয়ে চরম মুল্য দিতে হলো জুয়াড়- রেজ্জাকুলকে।

গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মান্নানের চৌপতি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে ধান ক্ষেত থেকে রেজ্জাকুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে।

একই দিন রাতে নিহত রেজ্জাকুলের মা মেহেরুল বেওয়া বাদি হয়ে সন্দিগ্ধ জুয়াড়িসহ অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও স্থানীয়রা জানান, পেশাদার জুয়াড়ি ছিলেন নিহত রেজ্জাকুল ইসলাম। শুধু এলাকায় নয়। জেলার বাহিরেও জুয়ার আসর দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। জুয়ার খোঁজ পেলেই মোবাইল বা পোশাক বন্দক রেখে হলেও জুয়া খেলতেন রেজ্জাকুল ইসলাম। তবে লাভ হলেই লাভ্যাংশ নিয়ে কৌশলে ছটকেও পড়ার দক্ষ জুয়াড়ি তিনি।

নিজ বাড়ির দক্ষিণে কিছুটা দুরে পনিরের বাঁশ বাগানে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসে। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্ত্রী আর্জিনার হাতে গচ্ছিত থাকা ১২ হাজার টাকা নিয়ে ওই জুয়ার আসরে যান রেজ্জাকুল ইসলাম। গিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত জুয়া খেলে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা আয় করে ছটকে পড়েন তিনি। লাভ করে ছটকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ জুয়াড়িরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ কারণে তার পথরোধ করে গলাটিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে তার মরদেহ ফেলে তারা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় ও তার আত্মীয় স্বজনদের দাবি। জুয়া খেলা ব্যতিত অন্যকোন নেশা নেই বলেও প্রতিবেশীদের দাবি।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে জুয়ার আসরের কোন ঘটনার কারণে রেজ্জাকুলকে জীবন দিতে হয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, ‘এলাকার জুয়াড়িদের খবর নিলেই রেজ্জাকুল হত্যার রহস্য বেড়িয়ে আসবে। কারণ জুয়া ও জুয়াড়ি ছাড়া কোন কিছুই বুঝত না নিহত রেজ্জাকুল। জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানান তিনি। সেই সাথে জেলার জুয়ার আসরগুলো ভেঙ্গে দিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।

নিহত রেজ্জাকুলের স্ত্রী আর্জিনা বেগম বলেন, প্রায় দিন জুয়া খেলে শেষ রাতে বাড়ি ফিরতেন তার স্বামী রেজ্জাকুল। মাঝে মধ্যে এক/দুই দিন পরেও জুয়া খেলে বাড়ি ফিরত বলে জানান তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় ১২ হাজার টাকা নিয়ে বাহির হলে সকালে তার বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান তারা। তার পকেটে মোবাইল বা টাকা পয়সাও ছিল না। টাকা কেড়ে নিতে তার স্বামীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার পূর্বক বিচার দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের খবরে পুলিশ বাড়ির পাশে ধানক্ষেত তার মরদেহ উদ্ধার করে ওই দিন বিকেলে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত রেজ্জাকুলের মা মেহেরুল বেওয়া বাদি হয়ে সন্দিগ্ধ জুয়াড়িসহ অজ্ঞতনামা আসামি করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধদের নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জুয়াকে প্রাধন্য দিয়ে কয়েকটি বিষয়ের উপর তদন্ত করা হচ্ছে। এরইমধ্যে হত্যা কান্ডের কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা না হলেও দুই এক দিনের মধ্যেই একটা ভাল ফল পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য