আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: চেষ্টা আর পরিশ্রমে যে দিন বদল করা যায় তার প্রমাণ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আবদুল খালেক। জীবিকার তাগিদে ২৭ বছর আগে একচিলতে জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। ওই নার্সারি থেকে উৎপাদিত ফুল ও চারা বিক্রি করেই তিনি দিন বদল করেছেন। নার্সারির আয় দিয়ে সংসার চালিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছেন। ফুল ও চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করেন আবদুল খালেক।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়নের হলদীবাড়ী গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুল খালেক। ২৮ বছর আগে এইচএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। ভাগ্যে জোটেনি কোনো চাকরিও। তাই বেকার জীবন থেকে মুক্তি পেতে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা করেন নার্সারি দেওয়ার। বসতবাড়ির একাংশে ২০ শতাংশ জমিতে করেন ফুল ও ফলদ বৃক্ষের নার্সারি। নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফুল আর চারাগাছে ভরে যায় নার্সারি। শুরু হয় নার্সারি থেকে ফুল ও চারাগাছ বিক্রি। বাড়তে থাকে আয়।

তারপর আর অন্য পেশায় না গিয়ে তিনি চারাগাছ আর ফুল বিক্রি করাকেই বেছে নিলেন পেশা হিসেবে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে জেগে নার্সারিতে পরিচর্যায় মেতে ওঠেন খালেক। বেলা বাড়লেই ফুল, ফল ও চারাগাছ নিয়ে যান বাজারে। এমনিভাবে ফুল, ফল আর চারাগাছ বিক্রি করে তার আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শিখাচ্ছেন।

নার্সারি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চলে তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ পাঁচ সদস্যর পরিবারের ভরণপোষণ। বর্তমানে তার নার্সারিতে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, সুপারি, নারিকেল, মাল্টা, গোলাপ, রজনিগন্ধা, গন্ধরাজ, বেলী, বকুলসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারাগাছ পাওয়া যায়। আবদুল খালেক বলেন, এখন থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে নিজেকে বেকারমুক্ত করতে শুরু করি নার্সারি।

পর্যায়ক্রমে আয় বাড়ে, বাড়ে সংসারে ব্যয়ও। তবে এ আয় দিয়েই সংসার চলে। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছেন। বড় মেয়ে মাস্টার্স পাস করেছেন। ছেলে এইসএসসি এবং ছোট মেয়ে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে। এভাবেই নার্সারির আয় দিয়ে ২৭ বছর ধরে চলছে সংসার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য