দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দীর্ঘ দিন ধরে দেশে বিলুপ্ত ও বিপন্ন প্রায় শকুন। গত ৪বছর ধরে আইইউসিএন বাংলাদেশ ও বন বিভাগ যৌথ ভাবে এই শকুন বাঁচাতে একটি প্রকল্প গ্রহন করেছে। সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুর সিংড়া জাতীয় উদ্যানে আইইউসিএন বাংলাদেশের শকুন উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

এখানে উদ্ধার পুর্বক চিকিৎসা এবং পুনর্বাস করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। শকুনের ফিরে যায় তাদের নিড়ে। চার বছরের চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে আনুষ্ঠানিক ভাবে হিমালয় এন্ড গ্রিভিনি জাতের ৭টি শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে।

বীরগঞ্জের সিংড়া জাতীয় উদ্যানে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৭ শকুন অবমুক্ত I+মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শকুন অবমুক্ত করেন পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ বিল্লাল হোসেন।

বগুড়া অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোঃ আব্দুল আউয়াল সরকার এর সভাপতিত্বে পরে এক আলোচনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ বিল্লাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আইইউএনসিএন’র বাংলাদেশে কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টটেটিভ ড. রকিবুল আমিন, সামাজিক বনবিভাগ রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুজ্জামান, সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান, রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন। শকুন প্রকল্পের মুখ্য গবেষক এবিএম সারোয়ার আলম দিপু।

শকুন প্রকল্পের মুখ্য গবেষক এবিএম সারোয়ার আলম দিপু জানান, বিভিন্ন এলাকায় শকুন আহত হয়ে স্থানীয় সিংড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ আহত শকুনদের চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করে।

এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক শকুন সুস্থ্য অবস্থায় প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। হিমালয়ের পাদদেশে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলা অবস্থিত। এ কারণে এই এলাকায় এখনো কিছু শকুন দেখা যায়। অনেক সময় এগুলো অতিথি হয়ে আসে।

তবে এ এলাকার মানুষ যদি সচেতন হয় এবং শকুন উদ্ধার করে অথবা আমাদের সংবাদ প্রদান করে তাহলে তাদের উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করার মাধ্যমে তাদের বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা সম্ভম হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য