মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ দুই মাস হলো গম কাটা শুরু করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের উপজেলার কৃষক। অভাবের তাড়নায় কৃষক খোলা বাজারে গম বিক্রিও শুরু করছেন। শতকরা ৫০ জন কৃষকই অভাব মেটাতে খোলা বাজারে স্বল্প মূল্যে গম বিক্রি করছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে গম বিক্রি করতে না পারায় এমনিতেই লোকসানে পড়েছেন এ এলাকার কৃষক। গম আবাদ বাদ দিয়ে ঝুঁকছেন অন্য ফসল উৎপাদনে।

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমি কম। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। যা বিগত বছরের চেয়ে ৩০০ হেক্টর কম।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে গম ক্রয় শুরু করার কথা থাকলেও সেদিকে খেয়াল নেই কর্তৃপক্ষের। সরকারিভাবে গম ক্রয়ের জন্য স্থানীয় গম ক্রয় কমিটি গত ১৫ তারিখ দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে গম ক্রয় সংক্রান্ত সভা করে।

এ সভায় প্রতিটি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি গম ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান মাসুদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বর্মন, খাদ্য পরিদর্শক শেখ আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গম ক্রয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে এখন খাদ্য অফিস বলছে, ১৫ তারিখের ওই সভার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। পুনরায় গম ক্রয় কমিটি সভায় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পরই সরকারিভাবে গম ক্রয় করা শুরু হবে। গম ক্রয় কমিটি ও উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের খাপ ছাড়া কার্যক্রমের কারণে বিলম্ব হচ্ছে সরকারি ভাবে গম ক্রয়। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষক।

চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম সরকারি ভাবে গম কিনবে এমন খবরে খুশি হয়ে বিক্রির জন্য ২০ বস্তা গম রেখেছিলেন। কিন্তু গত দেড় মাসেও গম ক্রয় শুরু না হওয়ায় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) লাহিড়ী বাজারে গম বিক্রি করে দেন তিনি। আগামীতে গম আবাদ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ভানোর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন,আমি বিগত পনের বছর ধরে গম চাষ করছি কিন্তু এক বছরেও সরকারিভাবে গম বিক্রি করতে পারিনি ৷কারন সরকারিভাবে কখন আর কিভাবে গম ক্রয় করে তা জানায় না৷এবারে আমি ১০ বস্তা গম বিক্রি করছি আরো ১৫ বস্তা আছে৷

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গম উৎপাদনকারী কৃষকের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর চাইলেই তালিকা সরবরাহ করা হবে। তবে গম কেনার বিষয়টি একান্তই খাদ্য অফিসের অধীনে বলে জানান কৃষি অফিসার শাফীয়ার রহমান। তিনি বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের কাজ ফসল উৎপাদন করা।

বালিয়াডাঙ্গী খাদ্য গুদামের পরিদর্শক শেখ আব্দুস সালাম বলেন, স্থানীয় গম ক্রয় কমিটি গম ক্রয়ের জন্য সভা করেছে শুনেছি। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত রেজুলেশন আকারে আমার দপ্তরে পৌঁছালেই আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে গম ক্রয় শুরু করবো। এখনও রেজুলেশনের কপি হাতে পায়নি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বর্মন বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) গম ক্রয় শুরু হবার বিষয়ে স্থানীয় গম ক্রয় কমিটি ও খাদ্য অধিদপ্তরের সভা রয়েছে। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হলেই আমরা সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি গম ক্রয় শুরু করবো। তবে গত ১৫ তারিখের সভায় গম ক্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, কৃষকের তালিকা প্রণয়নের জন্য ওই সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য