ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) থেকেঃ মরিচের বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও এবার পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে মরিচের নরম পচা রোগের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা এলাকার মরিচ ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে মরিচ গাছের গোড়ায় পচা রোগ ধরেছে।

এতে মরিচ গাছের শিকড় সহ গোড়া ক্রমে পচে যাচ্ছে। ফলে গাছের মরিচগুলো শুকিয়ে গাছ থেকে মাটিতে ঝড়ে পড়ছে। সরেজমিনে রোগাক্রান্ত মরিচ ক্ষেতে উপস্থিত হলে মরিচ চাষীরা এসে ঘিরে ধরে বলেন, স্যার, এতদিন পর আসলেন, মরিচতো পচে শেষ। আপনাকেতো স্যার খুজে পাওয়া যায় না। প্রতিনিধি বললেন, আমি কোন স্যার না, আমি সাংবাদিক, আপনাদের মরিচ ক্ষেত দেখতে এসেছি।

মরিচ ক্ষেতের এমন অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করতে মরিচ চাষী জব্বার আলী আবেগ আপ্লুত হয়ে বললেন, ভাই আমার অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। লাভের আশায় প্রতি বিঘা জমি ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪৯ হাজার টাকার বিনিময়ে শুধুমাত্র মরিচ আবাদের জন্য ৭ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছি।

মরিচের আবাদে এপর্যন্ত বিঘা প্রতি আমার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকের বেশী টাকা আমার ঋণ করা। মরিচ ক্ষেতের এই রোগে আমি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

তিনি জানান, এব্যাপারে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সাথে বার বার যোগাযোগ করে আমার কোন লাভ হয়নি।একই এলাকার কৃষক ইদ্রিশ আলী ৩বিঘা, ফয়জুল ইসলাম ৩ বিঘা, শরীফ উদ্দীন ২ বিঘা এবং আব্দুল জলিল ৪ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। তাদের ক্ষেতেরও একই অবস্থা বলে তারা আমাদের প্রতিনিধিকে জানান।

তারা জানান, আমরা কৃষক। কোনদিন এই এলাকায় কৃষি বিভাগের লোককে আসতে দেখিনি। আমরা তাদের চিনিও না।এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ মরিচ ক্ষেত দেখে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। যেহেতু আপনার মাধ্যমে জানলাম- এক্ষুনি আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠে পাঠাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য