সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব স্পষ্ট নয়। মূলত যৌন রোগ বলতে আমরা বুঝি এডস। কিন্তু মুহূর্তের অসাবধানতা আর অসচেতনতার ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে আরও অনেক ধরনের যৌন রোগ। মার্কেটিং প্রফেশনাল গায়ত্রী চৌধুরীর ধারণা ছিল কন্ডোম ব্যবহার করলেই সব ধরনের যৌন রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই গোপনাঙ্গে লালচে দাগ দেখতে পাচ্ছিলেন গায়ত্রী, সঙ্গে বাথরুমে যাওয়ার সময় তীব্র জ্বালার অনুভূতি। ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে গিয়ে শুনলেন, সিফিলিস নামে এক ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

চুমু যখন বিপদ ডাকে
গায়ত্রী ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে সঙ্গে সঙ্গে কিছু বিশেষ রক্তপরীক্ষা করতে দেন চিকিৎসক। পাশাপাশি সিফিলিস ভাইরাস যাতে বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য কয়েক সপ্তাহের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সও চালু করে দেওয়া হয়। যে সব যৌন রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যেই পড়ে সিফিলিস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এমন অনেক যৌন সংক্রমণ আছে যা মানবশরীরের দুটি খোলা মুখ পরস্পরের সংস্পর্শে এলেই সংক্রমিত হতে পারে। ওরাল সেক্স বা নিছক চুমু থেকেও এই রোগগুলো সংক্রমিত হয়। “যেহেতু এডস নিয়ে প্রচার বেশি, সচেতনতা বেশি, তাই অন্য যৌন রোগগুলো নিয়েও ভুল ধারণা তৈরি হয়ে গেছে। কন্ডোমের সাহায্যে অবাঞ্ছিত গর্ভসঞ্চার রোধ হয়, কিছু যৌন রোগও প্রতিহত হয়। কিন্তু হারপিস ভাইরাসের সংক্রমণ মোটেও কন্ডোম আটকাতে পারে না। কন্ডোম দিয়ে যৌনাঙ্গের কিছুটা অংশই শুধু ঢাকা থাকে। কিন্তু জেনিটাল ওয়ার্ট বা এইচপিভি, অন্যান্য ছত্রাকের সংক্রমণ বাকি খোলা অংশের সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে।”

সাবধানের মার নেই
নিজের সঙ্গীকে আগাপাশতলা চিনে বুঝে নেওয়া যেমন দরকার, তেমনই আপনি কতজন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠ হবেন, সেই সংখ্যাটায় রাশ টানাও অত্যন্ত প্রয়োজন। নতুন সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে তাঁকে শারীরিক পরীক্ষা করে নিতে অনুরোধ করুন। সফটওয়্যার পেশাদার রেশমি বিশ্বাস বলছেন, “জানি, প্রেমিককে এ ভাবে বলাটা খুব অদ্ভুত, কিন্তু যে সময়ে আমরা বাস করছি তাতে অন্য উপায় নেই। পুরুষটি আপনাকে ভালোবাসলে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে আপত্তি করবেন না।” প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি আর হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর বিরুদ্ধেও প্রতিষেধক নিয়ে রাখলে রেহাই মিলবে নানা অসুখবিসুখ থেকে।
– ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য