বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে চাঞ্চল্যকর তাওহিদ আঁখি মনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার এজাহার নামীয় অন্যতম আসামী সদর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম মতির ২ দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। পুলিশের ৫ দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত যুবলীগ নেতা খুরশিদ আলম মতিকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার সকালে খুরশিদ আলম মতিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। চাঞ্চল্য এ মামলার আই ও বিরল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অফিসার এ এম নাজমুল আহম্মেদ জানান, রিমান্ডের আসামী খুরশিদ আলম মতির নিকট থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সে সব তথ্য আমরা যাচাই বাছাই করছি।

এদিকে আঁখি মনির চিকিৎস্যা ও মামলার আসামীর রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী আঁখি মনির পিতা আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, আঁখি মনিকে ৫ এপ্রিল শুক্রবার ঘটনারপর স্থানীয়রা গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। টানা সাড়ে ২৫ ঘন্টা মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আঁখি মনির ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ৪ টার দিকে মৃত্যু হয়।

বাদী আসাদুজ্জামান জানান, গণ ধর্ষনের শিকার আঁখি মনিকে নির্যাতন করে মূখে বিষ ঢেলে দিয়েছিল আসামীরা। তিনি বলেন, আঁখিমনি হাসপাতালে টানা সাড়ে ২৫ ঘন্টা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছে। তার পরেও কি চিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কথাও স্থানান্তরিত করেনি।

তাকে দায়সারা চিকিৎসা দিয়ে ধর্ষনের আলামত নষ্ট করার জন্য দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, যদি এমন না হয়, তাহলে কেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুমূর্ষ আঁখিমনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কথাও স্থানান্তরিত না করে নিজেরা আটকিয়ে রাখলো।

এব্যাপারে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডাঃ ফজলুর রহমান বলেন, বিষ পান অবস্থায় আঁখিমনি ঐ রাতে ভর্তি হয়েছিল। তাকে ওয়াস দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক যথাযথ চিকিৎসা দেন। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল।

তার পর ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এক পর্যায় ভর্তি হবার প্রায় সাড়ে ২৫ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে সে মারা যায়। আমাদের চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসায় কোন ঘাটতি করেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজরিন পারভীন তাঁর চিকিৎসা কাজে সার্বক্ষনিক নিয়োজিত ছিলেন।

আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিনাজপুর এম, আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে চেয়ে ছিলাম, কিন্তু রোগীর সাথে তাঁর বৃদ্ধা নানী ছাড়া কাউকে পাইনি। ফলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়নি।

মামলার অন্যতম আসামী যুবলীগ নেতা খুরশিদ আলম মতিকে রিমান্ডে এনে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আঁখিমনির পিতা আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খুরশিদ আলম মতিকে রিমান্ডে এনে পুলিশ আসামীর পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে।

থানায় আসামী মতির পরিবার ও আত্মীয় স্বজননের সাথে দেখা করিয়ে দেয়াই ছিল পুলিশের কৌশল। একজন রিমান্ডের আসামীকে জামাই আদরে রেখে গোটা সময় বাইরের লোকজনের সাথে কথা বলিয়েছে পুলিশ। অন্যান্য আসামীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ালেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা।

মামলার আই ও বিরল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অফিসার এ এম নাজমুল আহম্মেদ জানান, রিমান্ডের কাজ নিয়ম মাফিক করা হয়েছে। রিমান্ডের আসামী খুরশিদ আলম মতির নিকট থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

সে সব তথ্য আমরা যাচাই বাছাই করছি। মামলার অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। তবে আসামী খুরশিদ আলম মতি আদালতে কোন প্রকার স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য