মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও অর্থের অভাবে সীমাহীন অভাব অনটনের মধ্যেদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশ মালিরা।

এ পেশায় নিয়োজিত শত শত শ্রমিক অর্থ ও পুঁজির অভাবে অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্ত শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার রয়েছে তারা বংশ গতভাবে দীর্ঘদিন থেকে এ পেশার সাথে জড়িত।

তারা বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র যেমন, ডালি, মাছের খোলই, কুলা, মুরগী পালনের ঝাপা, খইচালা ঝুরি, মাছ ধরা ডেরই, বাঁশের হারিকেন, পশুর হাত থেকে গাছ রক্ষাকারী খাঁচা, হাত পাখা, বাঁশি ইত্যাদি তৈরি করে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ছাড়াও অন্যান্য উপজেলার হাট বাজারে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করে বেশ স্বাচ্ছন্দে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

ঐ সময় একটি বাঁশের মূল্য ছিল ১৫-২০ টাকা। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার দাস পাড়া গ্রামের বাঁশমালি রমনি চন্দ্র দাস এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস পত্রে বাজার দখল হয়ে গেছে।

বর্তমানে বাঁশের তৈরী জিনিসের তেমন কদর নেই। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, বর্তমানে এই ব্যবসা করে সংসার চালানো খুবই কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমি ডেলিয়া (ডালি) বানিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে কোন মতে দিনপাত করছি।

দাস পাড়ার অন্যান্য বাঁশ শিল্পী উত্তম,শান্তী রানী দাস, শংকর কালী দাস, কালি দাস ও ঘেটু রানী দাস জানান, একসময় তারা অল্প টাকার বাঁশ ক্রয় করে সেই বাঁশ দিয়ে ঘর গোছালির বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে সেগুলো নিজ উপজেলা ছাড়াও দিনাজপুর পঞ্চগড়সহ জেলা ও উপজেলার অন্যান্য হাট বাজার গুলোতে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করে বেশ স্বচ্ছলতার সাথে সংসার জীবন চালাতে পারতেন।

বর্তমানে একটি বাঁশ ২০০- ২২০ টাকায় ক্রয় করে সেই বাঁশ থেকে বাতা বের করে যে টাকা আয় হয় তাতে আমাদের শ্রমের টাকাই আসে না। তারা আরোও বলেন, আমরা শুধু বংশ পরমপরায় রক্ষায় এ পেশা ধরে রেখেছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্রতার কারণে অন্য পেশা বেছে নিতেবাধ্য হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য