অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের মালিকানা স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন পদক্ষেপ ইউরোপ কখনোই মেনে নেবে না। মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় একথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি।

তিনি বলেন, সিরিয়ার গোলান মালভূমির ব্যাপারে ইউরোপের নীতিতে পরিবর্তন আসেনি এবং আসবেও না। মোগেরিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মালভূমির ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে সুস্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।

ইউরোপের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ নম্বর প্রস্তাব এবং ১৯৮১ সালে অনুমোদিত ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ইউরোপ এই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে বলে সুস্পষ্টভাবে জানান মোগেরিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে একটি ডিক্রিতে সই করেন যাতে গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের কথিত সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ওয়াশিংটন সফররত ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে এ কাজ করেন ট্রাম্প।

তেল আবিব ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়নি। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার গোলান মালভূমির প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয় ইহুদিবাদীরা। এর কিছুদিনের মধ্যে ওই দখলদারিত্বকে আইনি স্বীকৃতি দেয় তেল আবিব; যদিও আন্তর্জাতিক সমাজ এখন পর্যন্ত তা মেনে নেয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য