উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এলেই কেবল তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তৃতীয় আরেকটি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিমের এ মন্তব্য ছাপা হয়েছে।

দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এ নেতা তার ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি ‘ন্যায্য’ ও ‘উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য’ চুক্তি নিয়ে হাজির হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বলে খবর বিবিসির।

ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে আরও বৈঠকের সম্ভাবনা আছে মন্তব্য করার একদিন পরই কিমের এ আগ্রহের কথা জানা গেলে।

কিম ও ট্রাম্প গত বছর সিঙ্গাপুরে প্রথমবার একত্রিত হয়েছিলেন।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুজনের দ্বিতীয় বৈঠকটি কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধে ভেস্তে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার বদলে উত্তর কোরিয়া তাদের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার দাবি করায় কিমের সঙ্গে বৈঠকটি ছেড়ে চলে এসেছিলেন বলে সেসময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন।

পিয়ংইয়ং মার্কিনের এ ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে বলে, সব নয়, তাদের দাবি ছিল কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের।

গত মাসে উত্তরের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী চোয়ে সুন-হুই ভিয়েতনাম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘গুণ্ডাদের মতো ছিল’ বলে অভিযোগ করেছিলেন। হ্যানয়ে ওয়াশিংটন ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হারিয়েছে বলেও ধারণা তার।

যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চায় কিনা, ভিয়েতনামের বৈঠক তা নিয়ে ‘দৃঢ় সন্দেহ’ সৃষ্টি করেছে বলে সম্প্রতি কিমও মন্তব্য করেছেন, জানিয়েছে কেসিএনএ।

“উভয় পক্ষ মেনে নিতে পারে এমন শর্ত ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তৃতীয় কোনো সম্মেলনের প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তাদের আরেকটি সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। সর্বোচ্চ চাপ দিয়ে আমাদের অধীনস্ত করা যাবে, এমনটা ভেবে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ভুল করবে,” উত্তরের শীর্ষ নেতা এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক’ মধ্যস্থতার ধরন বদলাতেও আহ্বান জানিয়েছেন কিম।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের টানাপোড়েন চললেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ‘চমৎকার’, বলেছেন উত্তরের এ শীর্ষ নেতা।

নতুন কোনো সম্মেলনের প্রস্তাবনা দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় দেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এর মধ্যেই ওয়াশিংটন নতুন পরিকল্পনা হাজিরের ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নেবে, আশাবাদ কিমের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য