বিরল (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিরলে আলোচিত আঁখি মনি হত্যা ও ধর্ষন মামলার এজাহার জমা দেওয়ার ৫ দিনের মাথায় অবশেষে এজাহার নামীয় এক জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটক কৃত হলেন, বিরল ইউনিয়নের মাধববাটী গ্রামের ইউনুস আলীর পুত্র খুরশীদ আলম মতি।

তিনি ৫ নং বিরল ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও করলা মাধববাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসূল আটকের বিষটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ এবং এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মাধববাটী গ্রামের বিরল সদর ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মারুফ হোসেনের ছোট ভাই ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বয়ক তোজাম্মেল হোসেন তোজা (২৫) আঁখি মনির বাড়িতে এসে জোরপূর্বক আঁখি মনিকে ধর্ষণ করতে থাকে।

এ সময় আঁখি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে ধর্ষক তোজাম্মেল হোসেন তোজাকে দরজায় শিকল তুলে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তোজার বড় ভাই মারুফ হোসেনসহ তার লোকজন এসে তোজাকে ঘরের তালা ভেঙে উদ্ধার করে এবং আঁখিকে বেদম প্রহার করে।

এক পর্যায় আঁখি মনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সে মারা গেছে এই ভেবে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আঁখিকে একই এলাকার নানা মেহেরাব আলীর বাড়ির সামনে ফেলে দেয় এবং সে বিষ পান করেছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। আঁখিকে ওই অবস্থায় উদ্ধার করে আঁখির নানা বাড়ির লোকজন রাত ৩টার দিকে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে ভর্তি করান।

দীর্ঘ ২৫ ঘন্টা বিরল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে আঁখি মনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।

এব্যাপারে আঁখি মনির বাবা আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৫ জনকে আসামী করে বিরল থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৭। তারিখ-১১-০৪-২০১৯ ইং।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুল এর নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার দিবা গত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে আসামী খুরশীদকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে বাকী আসামীদের ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে জাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য