আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: কৃষি বিভাগের নজরদারি না থাকায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় তামাক চাষ দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। ক্ষতিকারক জেনেও অন্য ফসলের চাইতে লাভবান বেশি হওয়ায় তামাক চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। শারীরিক ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানলেও তামাক চাষ ছাড়ছেন না কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য উৎপাদক কোম্পানির পক্ষ থেকে উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সব দায়দায়িত্ব নেয়ার কারণেই তারা নিশ্চিন্তে ফসলটি আবাদ করছেন। অন্য যেকোনো ফসলের চেয়ে এটি লাভজনকও বলছেন তারা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লালমনিরহাটে ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আদিতমারী উপজেলায়। এ অঞ্চলে মূলত ভার্জিনিয়া ও মতিহরি জাতের তামাক চাষ হয়। অবশ্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর তামাকের আবাদ কিছুটা কমেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তামাকে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়। এতে মাটির উর্বরাশক্তি কমে যায়, অম্লতা বাড়ে, ফলে দীর্ঘমেয়াদের জন্য অনুর্বর হয়ে পড়ে জমি। তাছাড়া মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তবে কৃষকরা বলছেন, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি তাদের বিনা জামানত ও সুদে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি সহজ শর্তে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে। তাছাড়া সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এ তামাক কিনে নিয়ে যায় তারা। ফলে সহজ বিপণনের পাশাপাশি লাভের নিশ্চয়তার কারণেই তামাক চাষে আগ্রহ বাড়ছে। যদিও এ ফসল চাষ ও প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে তাদের সর্দি, কাশি ও জ্বর লেগেই থাকে।

আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস এলাকার ক্ষুদ্র চাষীরা বলেন, ধান বিক্রির টাকা পরবর্তী মৌসুমের ফসল আবাদ করতেই খরচ হয়ে যায়। শাকসবজিতেও সব সময় দাম পান না। অথচ তামাক চাষে কোম্পানি সবকিছু দিয়ে সহায়তা করে। তাই ক্ষতি জেনেও অনেকটা বাধ্য হয়েই তামাক চাষ করছেন।

তামাক নিয়ন্ত্রণ জোটের (আত্মা) সদস্য খোরশেদ আলম সাগরের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তারা কোম্পানির উপঢৌকন না নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা যেত।

তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, জানতে চাইলে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) বিধু ভূষণ রায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তামাক চাষের বিকল্প ফসল চাষে আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব তার কার্যালয় থেকে পাওয়া যায়। সেই তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি এড়িয়ে যান।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী বলেন, অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির প্রলোভনের কারণেই তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। অথচ প্রতি বছর তামাক সেবনের কারণে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আশার কথা হলো, আগামী বছর লালমনিরহাটে তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য