লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির একটি বিমান বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে জেনারেল খালিফা হাফতারের অনুগত বিমানবাহিনীর একটি দল বিমানবন্দরটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

বিবিসির খবরে বলেছে, সোমবার মিটগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘ এই ঘটনার জন্য জেনারেল হাফতার সমর্থিত বাহিনীকে দায়ী করেছে। দেশটির সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফীর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ পূর্বাঞ্চলীয় নেতা খলিফা হাফতার রাজধানী ত্রিপলি দখলের চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে তিনি দেশটির অধিকাংশ তেল ক্ষেত্রে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন। জেনারেল হাফতারের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চায় না।

জেনারেল হাফতার লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) এর নেতৃত্বে রয়েছেন। তার অনুগত বাহিনী লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরদিকে ত্রিপলির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। ত্রিপলিভিত্তিক এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সিরাজ দাবি করেছেন, তার সরকারকে উৎখাতে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে অন্তত তিন হাজার মানুষ ত্রিপলি ছেড়ে চলে গেছেন। যারা সেখানে অবস্থান করছে তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ সেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বিরাজ করছে। দেশটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বেসামরিক লোকসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জেনারেল হাফতার বাহিনী স্বীকার করেছে, তাদের ১৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য