বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ফিলিপাইনে পৌঁছেছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি ট্যাঙ্কার। সোমবার ভোরে ম্যানিলার বন্দরে নোঙ্গর করে রাশিয়ার দুটি সাবমেরিনরোধী যুদ্ধজাহাজ। ফিলিপাইনের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি সমুদ্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বড় ট্যাঙ্কারও পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এনিয়ে এই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো রুশ যুদ্ধজাহাজ ফিলিপাইনে নোঙ্গর করলো। এর আগে জানুয়ারিতে ম্যানিলায় আসে তিনটি রুশ যুদ্ধজাহাজ। ওই সময়ে বলা হয়েছিল শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমুদ্রগামী সহায়তা জোরালো করতে এসেছে এসব যুদ্ধজাহাজ।
ম্যানিলা পৌঁছেছে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটাই দাবি করে চীন। ফিলিপাইনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশও এ অঞ্চলে কিছু প্রবাল প্রাচীর ও দ্বীপের মালিকানা দাবি করে। ফলে এই অঞ্চল খুবই বিরোধপূর্ণ। অনেকদিন ধরেই এই অঞ্চলে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি এবং সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে চীন। অন্যদিকে এ অঞ্চলে ‘সামরিকীকরণ’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে।

গত কয়েক বছরে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের অনেকটা উন্নত হয়েছে। দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সামরিক মহড়া ছাড়াও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঘোষণা করেছে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনও সময়েরে চেয়ে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রয়েছে।

মস্কোর সঙ্গে ম্যানিলার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও এই অঞ্চলে রুশ উপস্থিতি এমন সময়ে নজরে আসলো যখন বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা চলছে। ফিলিপাইন সরকার দাবি করেছে এই অঞ্চলের থিটু দ্বীপের আশেপাশে শত শত চীনা নৌজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তারা। ম্যানিলার নিয়ন্ত্রিত এই দ্বীপটির ওপরও বেইজিং অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

থিটু দ্বীপ ঘিরে ম্যানিলা সামুদ্রিক স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ওই এলাকায় চীনা জাহাজের উপস্থিতি শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবারও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুত্যার্তে বেইজিংকে ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, চীন কোনও ধরণের আগ্রাসন চালালে সামরিক পদক্ষেপ নেবে ফিলিপাইন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য