বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশন এর সিপি কর্মী এবং বিরল মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাওহিদ আঁখি মনি (২০) এর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সহকর্মীর মৃত্যুর কারণে বিরল ওয়ার্ল্ড ভিশনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী রবিবারের জাতীয় স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচী থেকে নিজেদের বিরত রেখে শোক পালন করেছে।

অপরদিকে আঁখি মনির মৃর্ত্যুতে গোটা উপজেলাবাসী ফুঁসে উঠেছে। তাঁর মৃত্যুর আসল রহস্য যেন অন্য খাতে প্রবাহিত না হয় তাঁর জন্য তাঁর সহপাঠিরাসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রসাশনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। আঁখি মনির মৃত্যুতে সব মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েটিং রুমে মৃত্যু মায়ের লাশের পাশে গিয়ে ২ বছর বয়সী শিশু কন্যা রাইসার আঁকুতিতে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

দিনাজপুর জেলার পারবর্তীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর নতুনপাড়া গ্রামের আঁখি মনির পিতা আসাদুজ্জামান জানান, গত প্রায় ৫ বছর পূর্বে বিরল উপজেলার মাধববাটী মিলপাড় গ্রামের আক্তার হোসেনের পুত্র মেহেদী হাসান রাব্বি (২৪) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ধরে তাওহিদ আঁখি মনির বিয়ে হয়। জামাই মেহেদী হাসান রাব্বির পিতা আক্তার হোসেন ও মা রহিমা বেগম ফ্যাক্টরীতে কাজ করার সুবাদে ঢাকায় থাকেন। ফলে বিয়ের পর প্রথমে রাব্বি আঁখি মনিকে নিয়ে ঢাকায় উঠেন।

প্রেমের সর্ম্পকের এ বিয়ে রাব্বির পিতা মেনে নিলেও মা রহিমা মেনে না নেয়ায় রাব্বি আঁখি মনিকে নিয়ে গ্রামের বাড়ী মাধববাটী মিল পাড়ায় এসে বসবাস শুরু করে। প্রায় ১ বছর পড়া-লেখা বন্ধ রেখে নতুন ভাবে পড়া-লেখা শুরু করে আঁখি মনি। এবার সে বিরল মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীনী ছিল। বিয়ের কিছুদিন পর আঁখির কোল আলো করে একটি কন্যা সন্তান আসে। তাঁর নাম রাইসা (২)। আঁখি শুধু পড়া-লেখায় করতো না, স্বামীর সংসারে যেন অভাব অনাটন না আসে সে জন্য সে এনজিও ব্রাকে স্কুলের শিক্ষিকাসহ বিরল এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিপি কর্মী হিসাবে নিয়জিত ছিল।

ঘটনার বর্নণা দিতে গিয়ে তিনি জানান, আমার জামাই রাব্বি গত বৃহঃস্পতিবার ৪ এপ্রিল তার পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যায়। এদিকে আঁখি মনি তার শিশু কন্যা রাইসাকে নিয়ে বাড়ীতে থাকে। শুক্রবার ৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২ টার দিকে মাধববাটী গ্রামের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মৃত মহসীন আলীর পুত্র বিরল সদর ইউপি’র নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মারুফ হোসেনের ছোট ভাই তোজাম্মেল হোসেন তোজা (২৫) আঁখি মনির বাড়ীর দরজা নক করে। এসময় আঁখি মনি তাঁর বৃদ্ধা নানী এসেছে ভেবে দরজা খুলে দিলে তোজা বাড়ীর ভিতরে জোর পূর্বক ঢুকে আঁখি মনিকে ধর্ষণ করতে থাকে।

এসময় আঁখি মনি চিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন এসে ধর্ষক তোজাম্মেল হোসেন তোজাকে দরজায় শিকল তুলে তালাবদ্ধ করে আটক করে দেয়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তোজার বড় ভাই নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মারুফ হোসেনসহ তার সংগীয় লোকজন এসে তোজাকে ঘরের তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করে এবং আঁখি মনিকে বেদম প্রহার করে। এক পর্যায় আঁখি মনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে সে মারা গেছে এই ভেবে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আঁখিমনিকে একই এলাকার নানা মেহেরাব আলীর বাড়ীর সামনে ফেলে দেয় এবং সে বিষ পান করেছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে।

আঁখিমনিকে ঐ অবস্থায় উদ্ধার করে আঁখির নানা বাড়ীর লোকজন রাত ৩ টার দিকে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এব্যাপারে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজরিন পারভীন মিডিয়ার সামনে কথা বলতে না চাইলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুর রহমান জানান, আঁখিমনি ভর্তির প্রায় ২৫ ঘন্টা পর শনিবার দিবাগত ভোর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে মারা যায়।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসূল জানান, আমি সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে রবিবার সকালে অফিসার ও ফোর্স পাঠিয়ে লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর এম, আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

এব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে বিরল থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, মৃত আঁখিমনির গালে দাগ পাওয়া গেছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃতা আঁখিমনির স্বামী মেহেদী হাসান রাব্বী জানান, আমি সংবাদ পেয়ে শনিবার দুপুরে আমার মা সহ বাড়ীতে পৌঁছি এবং ঘটনার বিষয় অবগত হই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য