আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রায় দেড় যুগেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকা লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরটি পূনরায় চালুর দাবীতে সাইকেল র্যালী ও পথসভা কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের উদ্যোগে জেলা সদরের মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে এক সাইকেল র্যালী বের হয়। র্যালীটি স্থানীয় দুরাকুঠি বাজার, বালাপুকুর বাজারে এবং জেলা শহরের মিশনমোড়ে এক সভার মাধ্যমে শেষ হয়।

জানা গেছে, মোগলহাট সীমান্ত পার হয়ে খুব সহজেই পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। মোগলহাট সীমান্ত লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে। আর সীমান্ত থেকে ভারতের গিতালদহ রেলওয়ে স্টেশন মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯২ সালে মোগলহাট সীমান্তে অভিবাসন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট অফিস চালু করা হয়। ওই সময় এ পথে দৈনিক ১৫০-২০০ যাত্রী সীমান্ত পারাপার করতেন।

কিন্তু নদী ভাঙনের ফলে উভয় দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী ধরলা নদীর উপর নির্মিত গীতালদহ সেতুটির একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থল বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ভারতের গীতালদহ ও বাংলাদেশের মোগলহাট স্থলবন্দরটি পুনরায় চালুর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করেন, যা এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে।

এ বন্দরটি পূনরায় চালু হলে লালমনিরহাটসহ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও বন্দরটি চালু হলে জেলার মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানসহ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।

উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের সভাপতি সুপেন দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু, কামরুল ইসলাম বকুল, মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমূখ। এদিকে একই দাবীতে ভারতের অভ্যন্তরে দীনহাটা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা অবিলম্বে বিমান বন্দর ও মোগলহাটস্থল বন্দর চালুর দাবীতে বক্তব্য রাখেন।

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু বলেন, ‘পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ও মোগলহাট শুল্ক স্থলবন্দর সচল করা গেলে লালমনিরহাট জেলার এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের মিনি রাজধানীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্যই সরকারের কাছে ব্যবসায়ীরা পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দর ও মোগলহাট শুল্ক স্থলবন্দরটি সচল করার দাবি জানাচ্ছি।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য