ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে, কয়লা বা পারমানবিক উপায়ে বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও উৎপাদন বন্ধ করে, নবায়ন যোগ্য জ¦ালানীর মাধ্যমে বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

গতকাল শুক্রবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জিএম পইরট উচ্চ বিদ্যালয সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উত্তারাঞ্চর প্রতিনিধি সভায় সরকারের প্রতি এই আহবান জানানো হয়। একই সাথে কয়লা ও পারমানবিক বিদুঃ কেন্দ্র স্থাপন বন্ধ করারও আহবান জানানো হয়।

ফুলবাড়ী খনিকে উন্নায়ন ও ২০০০ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ স্থাপন করার জন্য এশিয়া এনার্জির মুল কোম্পানী জিসিএম এর সাথে চিনা পাওয়ার কোম্পানীর চুক্তি বাতিল ও ফুলবাড়ী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে, শুক্রবার দিনব্যাপী ফুলবাড়ী জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সভাকক্ষে, তেল গ্রাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উত্তারাঞ্চল প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধি সভায় তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুর ইসলাম জুয়েল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন, তেল গ্রাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রিয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। এতে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় কমিটির নেতা ও গণফ্রন্টের সভাপতি টিপু বিশ^াস, কেন্দ্রিয় নেতা বজলুর রশিদ, শুভ্রাশু চক্রবর্তি, বাংলাদেশে ইউনাইটেড কমনিউস্ট লীগ এর সাধারন সম্পাদ মোশারফ হোসেন নান্নু, সিপিবির কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল্যাহ আলকাফি, তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতয়ি কমিটির কেন্দ্রিয়নেতা আনোয়ার আলী দুলার, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খাঁন, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, প্রকৌশলী মাহবুব সুমন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রিয় নেতা মুরাদ মোরশেদ ও বিভিন্ন জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কে›িন্দ্রয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, চিন ও ভারতের পরিত্যাক্ত কর্মসূচি, কয়লা ভিক্তিক তাপ বিদুৎ কেন্দ্র, তাদের দেশিয় কোম্পানী গুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশে একের পর এক কয়লা ু পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপননের জন্য সরকারের সাথে চুক্তি করে আসচ্ছে। তিনি বলেন চিন ও ভারতের শক্তির প্রভাব নিয়ে, সরকার তাদের ক্ষমতা দির্ঘায়ু করা ও মোটা অংকের কমিশনের আশায় চিন ও ভারতের সাথে একের পর এক দেশ ধ্বংশের চুক্তি করে আসচ্ছে।

অধ্যাপক আনু মোহাম্ম আরো বলেন, চিন এখন আর কোন গণমানুষের সমাজতান্ত্রিক দেশ নয় কিংবা ভারতও কোন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও নয়, চিন ও ভারত এখন সম্রজ্যবাদ রাষ্টে পরিনত হয়েছে। তিনি উধারহন টেনে বলে ঋনের দায়ে জামাইকার বিমান বন্দর চিন তাদের দখলে নিয়েছে, একই ভাবে বাংলাদেশকে ঋনের দায়ে আবদ্ধ করছে। একই ভাবে পার্শবতি রাষ্ট্র ভারত, নানা ভাবে বাংলাদেশকে তাদের আয়ত্বে রেখে শোষন করছে।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন রামপাল বিদুৎ কেন্দ্রটির মালিকানা ভারতের, এখানে যা লাভ হবে তা সবেই নিবে ভারত, এখানে ভারতের কয়লা বিক্রি হবে। কিন্তু এই রামপাল বিদুৎ কেন্দ্রের কারনে যে ক্ষতি হবে, তা সবেই বাংলাদেশের। একই অবস্থা পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র। এই বিদুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করছে রাশিয়া, এর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ভারত, কিন্তু এই পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্রর জন্য যে ক্ষতি হবে তা সবেই বাংলাদেশের। তিনি বলেন এই চুক্তি গুলো দেশবিরোধী চুক্তি, সরকার এই দেশবিরোধী চুক্তি করেছে কেবল মাত্র ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকার জন্য ও মোটা অংকের কমিশন নেয়ার জন্য।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন আগামী ৪১ সাল পর্যন্ত বিদুতের চাহিদাকে সামনে রেখে এখন বড়পুকুরিয়ার পাশাপাশি, চট্রগ্রামের বাঁশখালি, পাবনার রূপপুর, রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পর এখন ফুলবাড়ীর কয়লা খনিকে কাজে লাগিয়ে ৬ হাজার মেগওয়াড বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ষড়যন্ত্র করছে সরকার। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খুনি কোম্পানী এশিয়া এনার্জি যার বর্তমান নাম জিসিএম, সম্প্রতিক একটি চিনা পাওয়ার কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেছে। তিনি বলেন বাংলাদেশের প্রধান দুটি সম্পদ পানি ও নদি, বাংলাদেশে মাটির নিচে পানি আছে বলে এখানকার মাটি এত উর্বর যেখানে বছরের ৩-৪টি ফসল উৎপাদন হয়, একই ভাবে নদি আছে বলে জিববৈচিত্র রয়েছে। এই পানি ও নদিকে ধ্বংশ করে কোন প্রকল্প করতে দেয়া হবেনা।

কেন্দ্রিয় নেতা ও গণফ্রন্টের সভাপতি টিপু বিশ^াস বলেন সম্প্রতিক সময় সারাদেশে উন্নায়ন যজ্ঞার মাধ্যমে কৃষকের সর্বনাস করার কর্মজ্ঞ চলছেন, একই ভাবে তাপ বিদুৎ স্থাপনের নামে আবারো নতুন করে ফুলবাড়ীতে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্টের ন্যায় আবারো গণআন্দোলন করে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রিয় নেতা প্রকৌশলী মাহবুব সোবহান বলেন বাংলাদেশে যে পরিমান বায়ু প্রবাহ হয়, তা দিয়ে ৩৪ হাজার মেগওয়াড বিদুৎ উৎপাদন করা সম্ভাব। যে খানে পরিবেশ দুষন হবেনা এবং খরছও অনেক কম। একই ভাবে বাংলাদেশের এক দশমিক ৭ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে ৫০ হাজার সৌর বিদুৎ উৎপাদন করা সম্ভাব।

প্রকৌশলী মাহববুব সোবহান বলেন বর্তমানে বাংলা দেশে ১৬ হাজার মেগওয়াড বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও বিদুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মেগওয়াড। সেই বিদুৎ কয়লা বিক্তিক ও জ¦ালানী তেল ভিক্তিক করতে খরছ যেমন বেশি হচ্ছে তেমনী পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি এই কারনে কয়লা বা পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র পরিহার করে নবাবয় যোগ্য (বায়ু ও সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে) বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানান।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদক ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রিয় নেতা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন বলেন বর্তমান সরকার একের পর এক দেশ বিরোধী চুক্তির সেই দেশের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকার যে ষড়যন্ত্র করছে, সেই ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে সাধারন জনগণসহ সারা দেশ। তাই আগামী দিনে লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে এই দেশ বিরোধী চুক্তি বন্ধ করতে হবে।

প্রতিনিধি সম্মেলনে বাংলাদেমকে রক্ষা করতে কয়লা ও পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র পরিহার করে নাবায়ন যোগ্য বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও ফুরবাড়ী ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয অন্যথায় আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দাবী পুরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য