দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের দরগা মঠ একটি অন্যতম। ইতি পূর্বে মঠ এলাকায় কিছু না থাকলেও সেখানে এখন গড়ে উঠেছে হাট-বাজার,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বে-সরকারী হাসপাতাল।

মঠ কে কেন্দ্র করেই স্থানটির নামকরন হয়েছে দরগা। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের আওতায় বিরামপুর-ঘোড়াঘাট সড়কের ধারে এর অবস্থান। বহুকাল ধরে ওই স্থানে মহরম উপলক্ষ্যে একদিনের একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলায় আশপাশের গ্রাম গুলো থেকে আসতো তাজিয়া নিয়ে। ঢাক ঢোলের তালে তালে চলত তাজিয়ার প্রতিযোগিতা।

এখনও মেলা হয় কিন্তু তাজিয়া আর আসে না।দরগা মঠে মেলার দিনে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানতকারীরা সিরনী(পোলাও)দিয়ে আসছে। এখনও অনেকেই দেয়। হিন্দু ধর্মালম্বারীরা তাতে সোলার তৈরী ফুলও ঝুলিয়ে দেয়।

মঠটি সম্প্রতিকালে জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হলে সেটি রক্ষার জন্য নিজ উদ্যেগে সংস্কারের কাজ করেন সেখানকার বেসরকারী কায়েম উদ্দীন হাজিরন মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডাঃ মশিউর রহমান।তিনি জানান প্রাচীন যুগের এই মঠটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

মঠটি আস্তে আস্তে জরাজীর্ণ অবস্থায় নষ্ট হতে যাচ্ছে। তার ভাবনা ঐতিহাসিক মঠটির স্মৃতি ধরে রাখতেই তিনি ওই সংস্কারের উদ্যেগ নেন।তাছাড়াও মঠকে কেন্দ্র করেই এই স্থানটির নাম হয়েছে দরগা। তার এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানান মঠটির সব দিকে সরকারী জায়গা দখল করে দোকান ঘর করা হয়েছে।

ওই দোকান ঘরগুলি যদি সরিয়ে মঠের সব দিক ফাঁকা করে বাউন্ডারী দেয়া যায় তাহলে মঠটির সুন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে।স্থানীয় আনোয়ার হোসেন নামে একজন ইউ,পি সদস্য জানালেন মঠের ধারের দোকান উচ্ছেদের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পান নাই।

নবাবগঞ্জে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বইয়ে প্রয়াত লেখক আঃ আজিজ লিখেছেন জনশ্রুতি আছে শাশমান গাজী নামে এক আল্লাহ ভক্ত লোক সেখানে আস্তানা করে থাকতেন। তিনি মারা গেলে তাকে সেখানে কবরস্থ করা হয়। আবার এটাও লিখেছেন মঠটি তৎকালনি জমিদারের বিশ্রাম কাজ হিসাবে ব্যবহার হতো।

যাইহোক মঠটি যে প্রাচীন যুগের এতে কোন সন্দেহ নাই। ৬ কোন বিশিষ্ট এই মঠটির আনুমানিক উচ্চতা প্রায় ৮ ফুট। উপরের অংশ গোলাকার। সমতল ভ’মি থেকে মঠটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। দরজা মঠের দক্ষিন দিকে। দরজার দুপাশ দিয়ে ও উপরের দিকে চার পাশে কিছু কারুকাজ করা ছিল। পূর্ব দক্ষিন কোনের দিকে একটি ছোট জানালা রয়েছে।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই গাড়ী থামিয়ে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেও থাকেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য