দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক ড. মারুফা বেগম বলেছেন, অসম্প্রদায়িক,গণতান্ত্রিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭০ সালের ৪ঠা এপ্রিল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর জন্ম।

দেখতে দেখতে মহিলা পরিষদ ৪৯ বছর এ পদার্পন করেছে। সংগঠনের এই গৌরবময় ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি,তাদেরকে যাদের জীবনের মূল্যে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালসহ আরো অনেকে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা এই নারী আন্দোলনের পতাকা বহন করার শক্তি ও প্রেরণা পেয়েছি। তিনি আহবান জানান, “আসুন যৌন হয়রানি,ধর্ষণসহ নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সমাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলি” -এই আহ্বান কণ্ঠে নিয়ে আমাদের ৪৯ বছরের পথ পরিক্রমন।

স্বাভাবিকভাবে এই পথ চলা মসৃণ ছিল না। সামাজিক- রাজনৈতিক বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের সোথে মোকাবেলা করেই এই সংগঠন। আজ শক্তিশালী প্রগতিশীল বৃহৎ সামাজিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। গড়ে তুলেছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একাধিক সংগঠক।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ৪এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। উক্ত কর্মসুচীর আলোকে বিকাল সাড়ে ৩টায় শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা কার্যালয়ে শেষ হয়। র‌্যালী শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক ড. মারুফা বেগম উপরোক্ত কথা গুলো বলেন। মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মাহাবুবা খাতুন এর সভাপতিত্বে মহিলা পরিদের সাধারণ সম্পাদক ড.মারুফা বেগম এর স্বাগত বক্তব্যের পর প্রবন্ধ পাঠ করেন মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার।

উক্ত সভায় বক্তারা বলেন, নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ ও সং¯ৃ‹তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহিলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি সৃষ্টিকারী,জনমত গঠনকারী,খসড়া প্রনয়নকারী ও বাস্তবায়নকারীর ভূমিকায় একটি অগ্রণী,অগ্রসর,আন্তরিক,ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মহিলা পরিষদ।

নারী-পুরুষের সমতা,নারীর মানবাধিকার প্রচেষ্টা,বিশেষ করে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ,সন্তানের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার আইনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীর ব্যক্তি তথা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। নারীর প্রতি বৈষমমূলক আইন সংস্কারের দাবী জানিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় হিন্দু বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন আইন পাশ হয়েছে ।

পারিবারিক সুরক্ষা আইন, রাজনীতিতে নারী সমাজকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে মহিলা পরিষদের রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এরই ফলশ্র“তিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নারীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যখন বাংলাদেশের মেয়েরা এভারেষ্ট বিজয় করে ফিরছে, বিজ্ঞানে নতুন নতুন গবেষণা ও আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের অঁঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছে, তখন দেশের অভ্যন্তরে একটির পর একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে চলেছে।

মৌলবাদী শক্তির অপত্যপরতা বেড়েই চলেছে। সেই সাথে বাড়ছে রাজনেতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। সকলের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এখনও। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন,শ্রম মজুরী,কৃষক নারীর স্বীকৃতি ও অধিকার, আবাসন, যানবাহনসহ নানা ক্ষেত্রে নারীরা এখনও যথেষ্ট বঞ্চিত,নির্যাতিত। সমাজে, রাষ্ট্রে ও পরিবারে নারী-পুরুষের অসম অবস্থান এর প্রধান কারণ। আমাদের লক্ষ নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ধর্ম বর্ন সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের অর্থ সম্পাদক রতœা মিত্র,সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, মহিলা পরিষদ,দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি সুমিত্রা বেসরা, অর্থ সম্পাদক রতœামিত্র, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার,আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী,প্রচার সম্পাদক জেসমিন আরা,সদস্য রোকসানা বিলকিস,গোলেনুরসহ জেলা কমিটি ও পাড়া কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য