মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান রেলওয়ে শহর ও অষ্টম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্রের সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রাক্কালে জমিদাতাদের আন্দোলনের ফলে কাজের অগ্রগতিতে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে ভাবনায় পড়েছে সিভিল এভিয়েশনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। জনমনে দোলাচল দেখা দিয়েছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ হওয়া না হওয়া নিয়ে।

একদিকে জমি দাতাদের একাংশ নানা অভিযোগ ও দাবি জানিয়ে জীবন গেলেও জমি দেয়া হবেনা বলে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে সিংহভাগ সৈয়দপুরবাসী তথা নীলফামারী জেলাবাসীর প্রাণের দাবি বিমানবন্দরটি সম্প্রসারিত হয়ে আঞ্চলিক হাব হওয়াসহ ভবিষ্যতে যেন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে সৈয়দপুরের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীক নেতৃত্ব পর্যায়ের অনেকের কাছে জমিদাতাদের আন্দোলনটি সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে।

তারা আশংকা করছেন যে এর ফলে অতীতের মতো সৈয়দপুরবাসী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই তারা এ ব্যাপারে সৈয়দপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে যে কোন মূল্যে সৈয়দপুর আঞ্চলিক বিমানবন্দর রূপান্তরের সার্বিক কার্যক্রম তরান্বিত করাসহ দ্রুত এর কাজ শুরু ও সম্পূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি সূত্রমতে জমি অধিগ্রহণের ফলে যারা এর আওতায় পড়ে বাস্তুভিটাসহ জমি হারাচ্ছেন তাদের মধ্যে প্রকৃত মালিকরা তথাকথিত ঠুনকো অজুহাতে কোন আন্দোলনের পক্ষে নয়। বরং বিমানবন্দরের পশ্চিমাংশের বাড়াইশালপাড়ায় বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা একটি গ্রাম মূলত: প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে বেদখল করে নেয়া জমিতে।

সে কারণে ওই দখলকারী ব্যক্তিরা জমির মালিকানা দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিপূরণ পাবেন না। একারণে তারাই মূলত: আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এতে হয়তো তৃতীয় কোন পক্ষ বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীও জড়িত থাকতে পারে। তাদের এ ষড়যন্ত্রের ফলে সৈয়দপুরবাসীর এধরণের বিশাল প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা হবে এ এলাকার মানুষের জন্য চরম দূর্ভাগ্যের বেপার।

এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদলের সাথে। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তথা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ষড়যন্ত্র ইতিপূর্বেও হয়েছে। এবারও সেরকম দেখা যাচ্ছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা এবার ষড়যন্ত্রকারীদের কোনভাবেই সফল হতে দিবনা। যে কোন মূল্যে ষড়যন্ত্রকারীদের মূলোৎপাটন করে আমাদের অধিকার আমরা আদায় করেই নিবো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত সৈয়দপুর আঞ্চলিক বিমানবন্দর সুসম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে।

সৈয়দপুর এগ্রো রিসোর্স কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও সৈয়দপুর লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়ন নজরুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দর সম্প্রসারিত হয়ে আঞ্চলিক হাবে পরিণত হলে সৈয়দপুরের সার্বিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে।

যা সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। নতুন নতুন কল-কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ নানামুখী কর্মযজ্ঞ শুরু হবে।

যার ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জণের পথ সুগম হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোন ধরণের ষড়যন্ত্র বা প্রতিবন্ধকতা সত্যিকার অর্থে আত্মঘাতি হবে বলেই আমি মনে করি এবং এ থেকে সচেতন থাকার জন্য সৈয়দপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।

সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মোখছেদুল মোমিন এর সাথে এ নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের হবে। আঞ্চলিক এ বিমানবন্দর হোক এটা আমরা মনে প্রাণে চাই।

এক্ষেত্রে কোন রকম ষড়যন্ত্র সফল হতে দেয়া যাবেনা। জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তারপরও যদি তাদের কোন বক্তব্য থাকে তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। কিন্তু তারপরও যে কোন মূল্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা হবে।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার বলেন, সৈয়দপুরের উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আঞ্চলিক শুধু নয় আন্তর্জাতিক হোক সেটা আমরা চাই। এটি সম্প্রসারণ হলে সৈয়দপুরের জীবন মানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশ্বায়নের এ যুগে কাঙ্খিতমানের অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোন ধরণের ষড়যন্ত্র বা প্রতিবন্ধকতা অনভিপ্রেত। এমনটা কোনভাবেই হতে দেয়া যায়না।

যারা এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তারা সৈয়দপুর তথা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন চায়না। আমরা আশা করি সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সৈয়দপুরবাসীর প্রাণের দাবি বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজ দ্রুততম সময়ে শুরু করা হোক।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া জানান, জমি অধিগ্রহণ বাতিলে দাবিতে আন্দোলকারীরা মূলত: নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছেন।

তারা বুঝতে পারছেন না যে বিমানবন্দর সম্প্রসারিত হলে কি অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে এ এলাকায়। এর সুফল জমিদাতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ পাবে। তারা অযথা ও ঠুনকো অজুহাতে যে আন্দোলন করছেন তা তাদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ব্যাপারে আন্দোলকারীদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়াসহ সৈয়দপুবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জমি অধিগ্রহণ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পশ্চিম অংশের ভূজারীপাড়া এলাকার লোকজন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য