মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার মধ্য ভান্ডারা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। এবার রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্র সে।

অভাবের কাছে মাথা নত না করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নে ভাড়া করা ভ্যান চালিয়ে পড়ালেখার খরচ জোগাড় করছেন ১৭ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সহিদুল ইসলাম।

সহিদুল ইসলাম বাবা কৃষি শ্রমিক, দুই ভাই ভ্যান চালক পরিবার নিয়ে আলাদা।

সহিদুল সবার ছোট। ইচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু শ্রমিক বাবা কোনরকমে অভাবের সংসার পরিচালনা করেন।

তাই সহিদুলের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারবে না জানিয়ে দিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার আগেই। সহিদুল ইসলাম পরিবারকে না জানিয়ে মাঝে মাঝে বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে ভাড়া করা ভ্যান চালাতে শুরু করেন। সেই টাকায় পড়তে থাকেন একাধিক প্রাইভেট। ইচ্ছে মেডিকেলে পড়ে ডাক্তার হবে। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার কথা থাকলেও পায় ৪.৪৪। কারণ পড়ালেখার পাশাপাশি চিন্তা ছিল আয়ের।

এসএসসিতে জিপিএ ৫ না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত পরির্বতন করে সহিদুল। এবার স্বপ্ন দেখেন কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। নিজ উপজেলায় কলেজে একাদশে ভর্তি হয়ে আবার শুরু করে কলেজ ও ভাড়া ভ্যান চালানো। কলেজের পাশপাশি পাঁচটি বিষয়ে পড়ছেন প্রাইভেট।

সহিদুল ইসলাম বলেন, বাবার দ্বারা আমার পড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই নিজে আয় করে পড়ার খরচ জোগাড় করছি। এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছি সেজন্য ৫টি বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে হয়। প্রতিটির জন্য মাস দিতে হয় ৩০০ টাকা। অনেক সময় স্যারদের অনুরোধ করে টাকা কম দেয়। আগামীতে ভাল ফলাফল করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চেষ্টা করব। ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপর্জানের তাড়া থাকে বলে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারি না। তাছাড়া তার নিজের ভ্যান নেই। তাই অনেক সময় ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হয়-এতেও তার অনেক সময় নষ্ট হয় বলে জানান সহিদুল।

সহিদুলের বাবা বাদশা মিয়া বলেন, অভাবের সংসার তাই ছেলের পড়ার খরচ দিতে পারি না। তাকে বলেছি পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাজ কর। কিন্তু কথা শোনে না। শুনেছি মাঝে মাঝে ভ্যান চালিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সহিদুলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান বাদশা মিয়া।

রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, শুনেছি আমার কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সহিদুল ইসলাম ভ্যান চালিয়ে পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছেন। বাস্তবে এই সময়টি তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার পড়ার প্রতি ভাল আগ্রহ আছে। কোনভাবে যদি সহিদুলের পড়ালেখার খরচের দায়িত্ব নেওয়া যায় তাহলে সে অবশ্যই ভাল কিছু করতে পারবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য