আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট কালীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের চৈত্রের কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী উপজেলার বারাজান-বান্দর কুড়া এলাকায় প্রথাগত পাঠাবলীর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ঐহিত্যবাহী পূজা ও মেলা। হিন্দু সম্প্রদায়সহ বর্ণবৈষম্যহীন এলাকাবাসীর সনাতনী ভক্তির স্থান ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র কালীর বার্ষিক পূজা ও মেলাকে ঘিরে স্থানীয় সব শ্রেণী পেশার মানুষের অন্যরকম এক আমেজের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, অনেক মানতের সফল (কামিয়াবী) ভক্তরা বহূদূর বাংলাদেশের প্রতন্ত অঞ্চল থেকে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারাজান-বান্দর কুড়া এই মেলায় আসেন । মহাশক্তি শ্রীশ্রী কালী মায়ের পূজায় । প্রতিবছর চৈত্র মাসের স্বপ্নে আদেশকৃত তারিখে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাকে ঘিরে সমবেত হয় লাখো মানুষ।

কালী মন্দির কমিটির সভাপতি তাপস চন্দ্র রায় বলেন, আমরা কালী মাকে তুস্ট করার জন্য প্রতিবছর মায়ের পূজা করে আসছি। কালী মা তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশ জন দেবীর মধ্যে কালী প্রথম দেবী। ভক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির আদিকারণ মনে করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে দেবী কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়।

বারাজান এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, সনাতন(হিন্দু) ধর্মীয় উৎসব হলেও সব সমপ্রদায়ের মানুষ আসেন এই মেলায়। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী- পুরুষ ও শিশুরা আসেন। মেলাকে ঘিরে দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। মেলায় বেচাকেনা চলবে। গভীর রাত পর্যন্ত।

মেলায় পাওয়া যায় মিষ্টি, খেলনা, মনোহরী সামগ্রী। লোহা ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, মাটির তৈরি খেলনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত সমগ্রী। কালী পূজা উপলক্ষে কালীর মন্দির,শসানঘাট এলাকায় সারারাত চলে ভক্তদের দেহত্বত্ত, সামা সংগীত, ভক্তিগীতি গান।

পাপ মোচন ও পুণ্য লাভের আসায় দেশ- বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ আসেন কালী মায়ের কাছে বিপদ থেকে পরিত্রান পাওয়া ভক্তরা মানত দিতে ও কালী মায়ের অশেষ কৃপা আদায় করতে। শ্রীশ্রী কালী মায়ের মেলার আনন্দে পাল্টে যায়। মেলার দিনব্যাপি কালী মায়ের পূজায় ভোররাত থেকে মেলায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

এইদিন ভোর থেকে পর্যন্ত প্রচন্ড ভীর উপেক্ষা করে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মানুষের ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। বিভিন্ন ষ্টলের সেলসম্যানদের প্রচন্ড ব্যাস্ততার মধ্যে গ্রাহকদের সামলাতে হয়েছে। চিত্রবিনেদনের জন্য এ মেলায় চলছে সার্কাস, মৃত্যু কূপ কার- মোটরসাইকেল খেলা।

চলবলা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় মেলায় কোন ধরনের অশ্লিলতার সুযোগ মেলেনি। মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াও আসবাবপত্র, কুটির ও হস্তজাত দ্রব্য, প্রসাধনী, খেলনা, প্লাষ্টিক সামগ্রী, চুড়ি, ফিতা, মিষ্টির দোকানসহ ১০হাজারের বেশি ষ্টলের বিপুল সম্ভারের পসরা বসানো হয়েছে। তবে মেলায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য