দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ভারত সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশি ১০০ তরুন এখন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি, আগ্রা সফর শেষে বর্তমানে হায়দ্রাবাদে। দিনাজপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত তথ্য,গবেষনা ও প্রচার সম্পাদক কৌশিক বোস এ দলের সফরসঙ্গী রয়েছেন ।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৯ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার সকালে প্রথমে প্রতিনিধি দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় সংসদ ভবনে। রাজ্য ও লোক সভা ঘুরিয়ে দেখানোর পাশাপাশি তাদের ভারতের রাজনীতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এসময় বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সম্মানে বক্তব্য রাখেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এস এস আলুওয়ালিয়া। বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের সম্মানে বাংলায় বক্তব্য দিয়ে সকলকে অভিভূত করেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ভারতে আশ্রিত শরনার্থীদের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। কারণ তিনি ছিলেন সেই শরণার্থী শিবিরের স্বেচ্ছাসেবক, তিনি বলেন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি শরণার্থীদের আর্তনাদ। এসময় বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন সকল মেম্বার তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে।

বাংলাদেশ এবং ভারতের জাতীয় সংগীত এর রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন সেই হারানো দিনের সুর এবং সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন এবং সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান করেন একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার।

তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের তরুণরা অনেক দক্ষ, তারা তাদের নিজেদের দক্ষতা দেখাতে পারলে বিশ্বের যে কোন দেশের সাথে যেকোনো প্রতিযোগীতায় সফলতা অর্জন করবে। তরুনরাই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে পারে উল্লেখ করে সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন এস এস আলুওয়ালিয়া।

পরে, ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে তরুন প্রতিনিধি দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট ফর দা আর্টস মিলনায়তনে। সেখানে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফ্টেন্যান্ট কর্ণেল আর এ রাঙনেকার বলেন, ভৌগলিক কারনেই বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সংস্কৃতিগতভাবে মিল রয়েছে। সংস্কৃতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে তরুনদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিকেলে, ইন্ডিয়া গেইট এবং ন্যাশনাল ওয়ার মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন বাংলাদেশি তরুন প্রতিনিদি দলটি। রাতে, নয়াদিল্লির একটি হোটেলে বাংলাদেশি তরুন প্রতিনিধি দলের আমন্ত্রনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির যুব ও ক্রীড়া সচিব এন রাজা বলেন, দুদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার কারতে কাজ করে যাচ্ছে তার সরকার।

ভারত চায় বাংলাদেশের পাশে থেকে উন্নয়ন সহযোগী হতে। সেলক্ষ্যে যাবতীয় সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি। দুদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তরুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান ভারতের যুব ও ক্রীড়া সচিব। তৃতীয় দিন শনিবার ঐতিহাসিক তাজমহল এবং আগ্রা লালকেল্লা সফর করেন এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হন প্রতিনিধিদলটি। চতুর্থ দিন রবিবার প্রতিনিধিদলটি সফর করেন নয়া দিল্লির অক্ষরধাম আশ্রম। পরে সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আর্ন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে হায়দ্রাবাদ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সফরটিতে চীফ হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছেন হাই কমিশন অফ ইন্ডিয়া ঢাকার পলিটিক্যাল সেক্রেটারি নবনীতা চক্রবর্তী।

সফরটিতে অংশগ্রহণকারী দিনাজপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত তথ্য,গবেষনা ও প্রচার সম্পাদক কৌশিক বোস জানান, সফর টির শুরু থেকেই তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে পাঁচ তারকা বিশিষ্ট সব নামী দামী হোটেলে। বরণ করে নেয়া হচ্ছে ফুলের মালা গলায় এবং কপালে তিলকের ফোটা দিয়ে। কোথাও বা সম্মানিত করা হচ্ছে উত্তরীয় প্রদান করে। ভারতের আতিথিয়তায় বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন সকল প্রতিনিধি মুগ্ধ। মুগ্ধ তাদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য। অভিভূত ভারতীয়দের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান এবং ভালোবাসার জন্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য