মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ গ্লোবালাইজেশনের কারণে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সময়ের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত আকাশপথে যাত্রী সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে সারা বিশে^ই।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আকাশযাত্রায় আগ্রহী হয়ে পড়েছেন অনেকে। একারণে দেশের সরকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার আকাশযান তথা উড়োজাহাজ চলাচল অতীতের চেয়ে বর্তমান সময়ে ব্যাপকহারে বেড়েছে।

এটা যেমন বহির্বিশে^র বিভিন্ন দেশে গমনের ক্ষেত্রে হয়েছে, তেমনি অভ্যন্তরিণ যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজের ফ্লাইট সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫ গুণ বেশি ফ্লাইট উঠানামা করছে।

বর্তমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানসহ ৩ টি বেসরকারী কোম্পানীর এয়ারক্রাফট চলাচল করছে। প্রতিদিন এসব কোম্পানীর ১১টি ফ্লাইট উঠানামা করছে এখানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানের ২টি. ইউএস বাংলার ৫টি. নভোএয়ারের ৪টি। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই কোম্পানীগুলো দিন দিন তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। তারপরও বেসরকারী কোম্পানীগুলোর টিকিট পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে যাত্রীর চাপে।

কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো চিত্র। অর্থাৎ দিন দিন বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ১ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমানের সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে মাত্র ২৪ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ হয় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে। আর সৈয়দপুর থেকে মাত্র ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়ে যায় বাংলাদেশ বিমান। অথচ তার পর পরই নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে অবতরণ হয়। অর্থাৎ ৭২ আসনের সবগুলোতেই যাত্রী ছিল।

১ এপ্রিল সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণকারী বাংলাদেশ বিমানের কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে জানান, বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া কম থাকায় যাত্রী সংখ্যা বেসরকারী এয়ারক্রাফট এর চেয়ে যাত্রী বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছেনা, কারণ বিমানের যাত্রী সেবার মান খুব একটা ভালো না। পক্ষান্তরে বেসরকারী সংস্থাগুলো তাদের যাত্রীদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে চলেছে। এর ফলে ভাড়া বেশি হওয়া সত্বেও তাদের যাত্রীসংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য বাংলাদেশ বিমানের সৈয়দপুর ডিস্ট্রিক ম্যানেজার মাহবুব আল হাসানের নম্বরে বার বার কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেক অনুসন্ধান করে তার অফিসের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে কল দিলে তিনি যাত্রী সংখ্যা কম থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আজ আমাদের ঢাকা থেকে ২৪ জন ও সৈয়দপুর থেকে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচল করেছে।

পরে তার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানের জিএম শাকিল মেরাজের নম্বরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, হঠাৎ করে বিমানের ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট শুরু করায় যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বরাবরই বিমানের যাত্রী সন্তোষজনক। আশা করছি আগামিতে বিমানের যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে এবং তাদের যথাযথ সেবা প্রদানে বিমানের কর্মী বাহিনী সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট আছে এবং আগামীতে থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য