আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ পাবলিক পরীক্ষা এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসি শ্রেণি বাদে অন্যান্য শ্রেণির পাঠদানে সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কোচিং সেন্টার) চালু রাখা রাখার দাবিতে রোববার সকালে গাইবান্ধা জেলা শহরের ডিবি রোডে এক মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করা হয়। সদর উপজেলার সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। পরে তারা বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রদান করে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন মেধাকুঞ্জ কোচিং সেন্টারের পরিচালক সৈয়দ আরাফাত হোসেন, প্রতিভা কোচিংয়ের পরিচালক সেলিম মিয়া, মো. রবিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, নাহিদ ইসলাম শাহীন, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকার দেশে সুশিক্ষিত জাতি গঠনে পাবলিক পরীক্ষা পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসিসহ সকল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়েছে। যে কারণে গত পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তারা আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের তালিকায় গাইবান্ধা জেলার কোনো সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জড়িত ছিল না।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলা শহর ও সদর উপজেলার সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/কোচিং সেন্টার গুলোতে কোন সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের দিয়ে পাঠদান করানো হয় না। এসব সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/কোচিং সেন্টার গুলোতে ফ্রিল্যান্সার শিক্ষিত বেকার/ছন্দ বেকার যুবকেরা পাঠদান করে থাকে। যা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার মধ্যেই চলছে।

বক্তারা আরও বলেন, সারাদেশে পাবলিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত আলাদা বা স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে দেশের সকল সরকারি কলেজসহ ২ হাজার ৫৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হবে। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ মাস ৬ দিন ১ম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণির সকল প্রকার পাঠদান বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে একাদশ থেকে অনার্স-মাষ্টার্স পর্যন্ত শ্রেণির ক্লাস বন্ধ থাকবে। এতে করে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ১ মাস ৬ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিং বন্ধ রেখে অন্যান্য শ্রেণির কোচিং চালু রাখা প্রয়োজন।

অপরদিকে স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সারা বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পাবলিক পরীক্ষার (এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসি) জন্য ৯০ দিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ছুটি ৭০ থেকে ৮৫ দিন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আরও ২৬ দিন, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার জন্য আরও অন্তত ৩০ দিনসহ প্রায় ২৩৭ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকে। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৩৭দিন বাদ দিলে মাত্র ১২৮ দিন শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চলে। যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে তাদের বাৎসরিক সিলেবাস/পাঠ্যক্রম কোন ভাবেই শেষ করা সম্ভব না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য