নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় বারা ও পারসা জেলায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ছয় শতাধিক মানুষ। বারা ও পারসা জেলা পুলিশ কার্যালয়কে উদ্ধৃত করে নেপালি সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। সোমবার (১ এপ্রিল) দুর্যোগকবলিত গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রবিবার (৩১ মার্চ) রাতে নেপালের বারা ও পারসা জেলার গ্রামগুলোতে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়। বারা এলাকার পুলিশ সুপার সনুরাম ভট্টারাই ও পারসার পুলিশ সুপার রেওয়াতি ধাকাল জানিয়েছেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলি টুইট বার্তায় জানান, ঝড়ে ৪০০ জনের আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে বারা এলাকায় মারা গেছেন ২৮ জন এবং পারসা এলাকায় মারা গেছেন ১ জন। হিমালয়ান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বেশিরভাগ মানুষ মারা গেছে। কাছাড়া কেউ কেউ উপড়ে পড়া গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে চাপা পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঝড়ে আটকে পড়া ও আহতদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে কাজ করছে বিভিন্ন উদ্ধার কর্মী, নিয়োজিত করা হয়েছে হেলিকপ্টার।

দেশটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজেশ পাউদেল বলেন, বারা জেলার অনেক অঞ্চলে তীব্র ঝড় আঘাত হেনেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এমনকি মোটরসাইকেলে করে আহতদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে গিয়ে অনেক গ্রামের সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বারা জেলার বেশিরভাগ বাসিন্দাই কৃষক।

পুলিশ কর্মকর্তা সানু রাম ভাট্টারাই জানিয়েছেন, আশেপাশের এলাকার পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সোমবার বারা ও পারসা জেলায় পৌঁছেছেন। দুর্যোগকবলিত গ্রামগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য