জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকমানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রসস্তকরণের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানব বন্ধন ও ইউএনও’র কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে বিমানবন্দরের পশ্চিমে অবস্থিত ভুজারীপাড়া (হিন্দু সম্প্রদায়) এলাকাবাসী। ৩১ মার্চ (রবিবার) দুপুরে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।

সকাল ১১ টায় ভুজারীপাড়ার প্রায় সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, নবীন-প্রবীন বিমানবন্দর থেকে মিছিল সহ সৈয়দপুর শহরের প্রেসক্লাব অভিমুখে মানববন্ধন করার জন্য যাত্রা শুরু করে। এসময় লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সামনে আসামাত্র সৈয়দপুর থানার সেকেন্ড অফিসার আরমান এর নেতৃত্বে পুলিশ তাদের পথরোধ করে।

এতে সেখানেই তারা সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা শহরে প্রবেশ না করে উল্টোপথে ঘুরে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে যায়। সেখানে দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এসময় সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট রোড অবরোধ করাসহ ইউএনও’র কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলনকারীরা।

মানব বন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কমিউনিস্ট পার্টি নেতা রুহুল আলম মাস্টার, অতুল চন্দ্র মেম্বার, নুর ইসলাম, মোস্তফা, ইমরান প্রমুখ। এসময় তারা বলেন, রক্ত দিবো তবু বাস্তুভিটা দিবনা। বার বার বিমানবন্দর, সেনানিবাস ও রেলওয়ের জন্য আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি দিয়ে আমরা সামান্য অর্থ পেয়েছি মাত্র। আমাদের জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সরকারী-বেরসরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহে আমাদের সন্তানদের যোগ্যতা থাকা সত্বেও কোন কর্মসংস্থান হয়না।

তাছাড়া এবার জমি অধিগ্রহণের ফলে এলাকার ৩শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, কয়েকটি মন্দির, পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বিজরিত কবরস্থানসহ তিন ফসলী জমি হারিয়ে আমরা একেবারে বাস্তুহারা হতে বসেছি। তাই জীবন দিয়ে হলেও আমরা আমাদের ভিটে মাটি রক্ষা করবো। দাবি আমাদের একটাই, টাকা চাইনা, নিজ ভিটায় থাকতে চাই।

পরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম গোলাম কিবরিয়ার আহ্বানে তার অফিসে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন প্রতিনিধির সাথে আলোচনায় বসেন নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিনুর আলম। আলোচনা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনও আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে উভয়ই আন্দোলনকারীদের দাবিসমুহ লিখিত আকারে প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরণের আশ^াস দেন।

তারা বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর বর্ধিতকরণ তথা আন্তর্জাতিককরণের জন্য প্রয়োজনীয় ৫৩৫.১৩৭৮ একর জমি অধিগ্রহনের ফলে ১ হাজার ২ শ’ হতে ১ হাজার ৩শ’ ৫০ টি পরিবারের ৭ হাজার মানুষের জমি, বাস্তুভিটাসহ স্থাবর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এর মধ্যে ১২০টি হিন্দু ও ৪০টি মুসলিম পরিবার ভূমিহীন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দেয়াসহ ভূমিহীন পরিবারগুলোর যথাযথভাবে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত হলে সৈয়দপুরসহ আশেপাশের তথা রংপুর বিভাগের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। যা আমাদের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এর ফলে অত্র এলাকার জীবন মানের উন্নয়নসহ সার্বিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটবে। এতে সৈয়দপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে। আজ জমিদাতাদের সামান্য ত্যাগের বিনিময়ে আধুনিক ও উন্নত সৈয়দপুর গড়ার পথ সুগোম হবে। যার সুফল বর্তমান প্রজন্মসহ ভবিষ্যতের সকলেই পাবেন। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে এধরণের সুযোগ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। অথচ আপনারা অহেতুক আন্দোলন করে সৈয়দপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছেন। যা কোনভাবেই প্রত্যাশা করা যায়না।

তাদের এ বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিসমুহ লিখিত আকারে ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য আগামীতে স্বারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী ঘোষণা করে আন্দোলন স্থগিত করে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ মার্চ নিজ এলাকায় অর্থাৎ বিমানবন্দরের পশ্চিমপাড়ায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য