মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে মার্কিন সহায়তা কর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসী ইস্যুতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে শনিবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সহায়তা কর্তনের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলো হচ্ছে এল সালভেদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস। গত কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে এই দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়ছিল। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশে সহায়তা কর্তনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ পালন করছে পররাষ্ট্র দফতর।

ট্রাম্পের দাবি, এল সালভেদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাস অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্রোত তৈরি করছে। এছাড়া মেক্সিকো যদি শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিবৃত্ত না করে তবে এ সপ্তাহেই দেশটির সঙ্গে থাকা মার্কিন সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অভিবাসন নীতির নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেটো ও রারকে। তিনি একে ভীতি ও বিভাজনের রাজনীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাঠানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মধ্য আমেরিকার দেশগুলোকে দুষছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে তার এ হুমকির পর এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা স্টিফেন লেগোমস্কি। তার ভাষায়, ‘কোনও একটি স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে। কিন্তু মেক্সিকোর সঙ্গে পুরো সীমান্ত যদি তিনি বন্ধ করে দিতে চান তাহলে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুমকিকে হালকাভাবে নিয়েছেন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করেন, মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের চিন্তা করা আর শরীর একে অপরের সঙ্গে যুক্ত এমন যমজ শিশুদের আলাদা করার কথা ভাবা একই রকম বিষয়।

ট্রাম্প আগেও বহুবার মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এবার দেশটি মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে ঢোকা অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করতে মার্কিন নাগরিকদের এখন থেকে অনেক বেশি সময় লাগবে। কারণ সেখানে ৭৫০ জন এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টজেন নেইলসেনসহ আরও অনেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সম্প্রতি মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে উপস্থিত হতে চাওয়ার সংখ্যা বহু বেড়ে গেছে। এদের একটা বড় অংশই নারী ও শিশু। মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে হওয়া সহিংসতা ও দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছে। এল সালভেদর, হন্ডুরাস ও গুয়েতেমালা থেকেই মূলত এদের আগমন।

এমন প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন ফ্লোরিডা সফরে গিয়ে। সেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা দীর্ঘ সময়ের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেবো। আমি কোনও খেলা খেলছি না। মেক্সিকোকে এটা বন্ধ করতে হবে।

সব ধরনের পণ্যের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছিলেন, সব পণ্যের জন্যই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তিনি মনে করেন, অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ বন্ধে মেক্সিকো কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে খুব একটা জোরালো জবাব দেয়নি মেক্সিকো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারসেলো এবরার্ড টুইটারে লিখেছেন, মেক্সিকো কোনও হুমকির ভিত্তিতে সীমান্ত বন্ধ করে দেবে না। আমরা দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী।

মেক্সিকোর তিজুয়ানাভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিসিইর প্রধান কার্ট হোনোল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিষয়ে বলেছেন, এতে হাজার হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হবে। তিনি আসলেই বুঝতে পারছেন না, তিনি কী বলছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য