আব্দুল মান্নান,হাবিপ্রবিঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরেনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্স অনুষদের মেডিসিন সার্জারী এন্ড অবস্ট্রেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.মু.আবুল কাসেম এর অনুমোদনক্রমে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ ২০১৯) সদ্য বিদায়ী রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.মো.সফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।এই আদেশের মাধ্যমে প্রফেসর ড.মো.সফিউল আলম এর স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক।

অফিস আদেশে বলা হয় ,এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) পদে নিযুক্ত প্রফেসর ড.মো.সফিউল আলম কে ২৮ মার্চ ২০১৯ তারিখ অপরাহ্ন হতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো এবং সেই সাথে মেডিসিন সার্জারী এন্ড অবস্ট্রেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ডাঃ মো ফজলুল হক কে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ,সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থাকা অবস্থায় প্রাপ্য সুযোগ্য-সুবিধা মেনে চলার প্রেক্ষিতে ২৯ মার্চ ২০১৯ হতে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হলো ।

প্রফেসর ডা.মো.ফজলুল হক ১৯৫৭ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারি বর্তমান ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার মোলামের টেক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে সদরপুর, ফরিদপুর আমিরাবাদ পাইলট ইনস্টিটিউটশন থেকে এস.এস.সি. এবং ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন ।১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ থেকে ডি.ভি.এম. (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন) নিয়ে অনার্স এবং ১৯৮০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ থেকে এম.এস.সি. পাশ করেন । এরপর জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৬-১৯৯৭ পর্যন্ত পিজিটি করেন ।ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকরী সদস্য ছিলেন ।

কর্ম জীবনের শুরুতে তিনি ১৯৮৩ হতে ২০০৮ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত বিসিএস লাইভস্টক সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন।এরপর ২০০৮ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববদ্যালয়ে মেডিসিন সার্জারী এন্ড অবস্ট্রেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।২০০৯ সালে এসে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১২ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হোন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন ও করছেন-

(১)আহবায়ক,বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,(হাবিপ্রবি) শাখা, দিনাজপুর।(২)সাধারণ সম্পাদক,কার্যনির্বাহী কমিটি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদ, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর।৩) ভাইস-প্রেসিডেন্ট, কৃষিবিদ, ইন্সটিটিউশ বাংলাদেশ (কেআইবি), দিনাজপুর জেলা শাখা।(৪) ভাইস প্রেসিডেন্ট (বর্তমান) কেন্দ্রীয় কার্য্য নির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এ্যাসোসিয়েশন, (বিভিএ)।(৫)সভাপতি, হল সুপার, কাউন্সিল, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর।(৬)ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি(৭) সাংগঠনিক সম্পাদক, অপরাধ প্রতিরোধ ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ, মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬ (৮)সদস্য, (২০০৬)গভানিং বোর্ড, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা মহাবিদ্যালয়, মিরপুর-২, ঢাকা- ১২১৬।

এছাড়াও তার গবেষণা ধর্মী আর্টিকেলঃ ২১টি, “ইতিহাস কথা বলে পূর্বাপর ‘৭১” নামক একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ দৈনিক জাতীয় কালের কন্ঠ ,যুগান্তর,ইত্তেফাক সহ বিভিন্ন পত্রিকায় উপ সম্পাদকীয় পাতায় প্রায় ১০০টির বেশি বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনায় নিয়ে লেখাও প্রকাশিত হয়েছে।তিনি মাদার তেরেসা ,এম এ জি ওসমানী ,হাজী মোহাম্মদ মহসিন ও আর্মস পুরুস্কার সহ বিভিন্ন সম্মাননা পদকেও ভূষিত হয়েছেন ।

প্রফেসর ডা.ফজলুল হক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়েছিলেন।১৯৮৬ সালে মাদারীপুর জেলায় সরকারী চাকুরীতে কর্মরত থাকাকালীন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য হাতে নাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ ও ৮ ডাকাতের ১০ বছর কারাদন্ডের ঘটনায় বিরত্ত্বের সম্মাননা হিসেবে ০১ (একটি) SBBL GUN লাইসেন্সসহ অনুমোদন পেয়েছেন। তিনি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ও বিভিএ এর আজীবন সদস্য, বিভিএ এর নির্বাচিত সদস্য, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ডা.হক জানান, ইতোপূর্বে শতভাগ সততার মাধ্যমে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমাকে নতুন করে যে দায়িত্ব দেয়া হলো তা যেন আমি অতীতের ন্যায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারি সে জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি । সর্বোপরি আমি বলতে চাই সততা, সেবা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্যেই জীবনের সফলতা এবং ইহকাল ও পরকালের শান্তি নিহিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য