Chuneyaপূর্ব পুরুষের পেশা ধরে রাখতে দুঃখ আর অভাব কষ্ট বারোমাসি হলেও এ পেশা ছাড়তে চায় না দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ার ১৫ চুনিয়া পরিবার। এ পেশায় টিকে থাকতে না পেরে বাঁধ্য হয়ে পেশা বদলে ফেলেছে গ্রামের ২৫ পরিবারের মধে ১০পরিবার।

এখনও যারা টিকে আছে চুন বিক্রি করে তাদের পরিবারে ঠিকমতো তিনবেলা অন্ন জুটে না। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখার মধ্যেই তাদের শান্তি। এ পেশা ধরে রাখতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও’র ঋণের দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন চুনিয়া পরিবারগুলো।

সরজমিনে চুনিয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, চুনিয়াপাড়ার বেশিরভাগ ঝিঁনুক পোড়ানোর চুলা পড়ে আছে ঝিঁনুক বিহীন। দু’চার জনের বাড়িতে চলছে পোড়ানো ঝিঁনুক খুঁচিয়ে চুন তৈরির কাজ। বাড়ির পুরুষরা গেছেন ঝিঁনুক আনতে, আর নারীরা বাড়িতে ঝিঁনুক খুঁচিয়ে চুন তৈরি করেন।

শ্যামল চন্দ্র দেবনাথ (৪০), ধর্ম চন্দ্র দেবনাথ (৪২) ও পুলিন চন্দ্র দেবনাথ (৪৫) বলেন, এ পেশায় বেশি পুঁজি লাগে না। ৫০০থেকে ৬০০টাকায় এক মন ঝিঁনুকসহ আনুষঙ্গিক খরচ লাগে। চুন বিক্রি করতে বেশি সময় লাগায় পুঁজি টিকে না। তাই বিভিন্ন এনজিও থেকে বারংবার ঋণ নিয়ে ব্যবসার পুঁজি লাগাতে গিয়ে দেনায় জজরিত হয়ে পড়ছেন।

চুনিয়াপাড়ার গৃহবধূ চুন কারিগর অমিলা বালা (২৮), শেফালী রাণী (৩২), ইনি বালা (৬০), সুমিত্রা রাণী (৩৮), গীতা রাণী ও শান্তি বালা (৩০) বলেন, আগে গ্রামের পাশের ছোট যমুনা ও তিলাই নদী থেকে বিনামূল্যে ঝিঁনুক পাওয়াসহ এলাকার বনজঙ্গল থেকে খড় কুটা ও পাতা কুঁড়িয়ে ঝিঁনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হতো। এতে আয় বেশি হতো। কিন্তু নদীগুলো মরে যাওয়ায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূর মোহনপুরের পুনর্ভবা নদী থেকে ২৮০টাকা মন দরে কিনতে হচ্ছে।

এতে যাতায়াত খরচ ৯০টাকাসহ ঝিঁনুক পোড়ানোর জন্য খড়ি লাগছে ১২০ টাকার। খরচ লাগে ৬০ টাকা। ১ মন ঝিঁনুকের চুন তৈরিতে ব্যয় হয় ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ১ মন ঝিঁনুক দিয়ে চুন তৈরি হয় প্রায় আড়াই মন।

চুন বিক্রি হয় প্রতিকেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ১ মন চুন বিক্রি করতে ১৫ থেকে ২০ দিন লাগে। এতে গড়ে প্রতিদিন আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এ টাকা দিয়ে সংসার চলা দায়। তবে চুন বিক্রি হলে চুলায় আগুন জ্বলে, না হলে উপোষ থাকতে হয় পরিবার পরিজন নিয়ে। এরপও রয়েছে এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তির তাগিদ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য