ভারি বৃষ্টিপাতের পর দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যায় আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বন্যা অসংখ্য ঘরবাড়ি ও অস্থায়ী অনেক আশ্রয়কেন্দ্রকেও ভাসিয়ে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ বন্যায় কেবল জাওজান প্রদেশেই ১২ জন নিহত হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাকিদের মধ্যে দুইজন তুর্কেমেনিস্তান সীমান্তবর্তী বাদগিস প্রদেশে, হেরাত ও সার-এ পুল প্রদেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ শের খানি।

বন্যায় পাঁচশর বেশি ঘরবাড়িও ধ্বংস হয়েছে।

আকস্মিক এ বন্যা পশ্চিম আফগানিস্তানের সমস্যা সঙ্কুল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত কয়েক বছরের খরায় এমনিতেই এসব এলাকার লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে হওয়া হঠাৎ বন্যাও গমের চাষাবাদকে ঝুঁকিতে ফেলেছিল।

কেন্দ্রীয় সরকার হেরাতে বৃহস্পতিবার থেকে দেখা দেওয়া বন্যায় দুইজনের মৃত্যুর কথা বললেও প্রদেশটির কর্মকর্তারা মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন।

বন্যায় হেরাতে ৮ জনের মৃত্যু ও ৯ জন আহত হয়েছে বলে দাবি হেরাতের গণস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ড. আবদুল হাকিমের।

হেরাত প্রদেশের মুখপাত্র জিলানি ফরহাদ বলেছেন, আকস্মিক এ ঢল শত শত বাড়ি, কিছু ঐতিহাসিব নিদর্শন, হাজার হাজার একর জমি, সেতু ও সড়কের ক্ষতি করেছে।

বন্যায় লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা দিয়েছে দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। বাদগিসের অনেকে এ বন্যাকে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে অভিহিত করেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

মৌসুমী বৃষ্টির কারণে দেখা দেওয়া এ আচমকা বন্যায় ইরানও আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দেশটির অনেক এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য