শীতকালে ত্বকের শুষ্কতার সঙ্গে সবাইকেই অল্পবিস্তর লড়াই চালাতে হয়৷ কিন্তু যাঁদের ফ্লেকি স্কিনের সমস্যা থাকে, তাঁদের অবস্থা হয়ে পড়ে শোচনীয়৷ ত্বকের উপরের পাতলা পরতটা আঁশের মতো উঠতে আরম্ভ করে৷ বিশেষ করে থুতনির কাছে, নাকের পাশে, দুই গালে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়৷

ত্বকের উপরের স্তরটিই আপনাকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা জোগায়, তাই সেটি হারাতে আরম্ভ করলে ত্বক লাল হয়ে যায়৷ চুলকায়, দেখা দিতে পারে নানা ইনফেকশনও৷ সুস্থ ত্বকে অন্তত ২০ শতাংশ জল থাকে, কোনও কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে তা শুষ্ক হতে আরম্ভ করে, তখনই দেখা দেয় এই সমস্যা৷

সুস্থ ত্বক যত দ্রুত জল হারায়, তার চেয়ে অন্তত ৭৫ শতাংশ দ্রুত গতিতে আর্দ্রতা হারাতে আরম্ভ করে এই অবস্থায়৷ রাতারাতি কিন্তু এই অবস্থায় পৌঁছয় না ত্বক, নানা কারণ থাকে৷ খতিয়ে দেখে নিন কোনও অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সোরিয়াসিস, ডারমাটাইটিস, একজ়িমা ইত্যাদি কারণেও অবশ্য এমনটা হতে পারে৷ খুব গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় সাধারণত এই সমস্যা বাড়ে৷ খুব গরম জলে স্নান করলে ফ্লেকি স্কিনের অবস্থা আরও খারাপ হয়৷

যদি দেখেন যে কোনও শারীরিক কারণে আপনার এই সমস্যা হচ্ছে না, তা হলে কয়েকটি ঘরোয়া সমাধান ট্রাই করে দেখতে পারেন৷ সেই সঙ্গে অন্তত কিছুদিন বন্ধ রাখুন স্ক্রাবিং, খুব কোমল ফেসওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়৷

ভার্জিন কোকোনাট অয়েল: নারকেল তেল আপনার ত্বকের যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম৷ নারকেল তেলের প্রাকৃতিক এমোলিয়েন্টের প্রভাবে ত্বকে আর্দ্রতার জোগান বাড়ে, ত্বকের কোষগুলির মাঝের ফাঁকও ভরে ওঠে, ফলে ত্বক হয় মসৃণ৷ সামান্য গরম করে দিনে দু’বার লাগালে ভালো ফল পাবেন৷

মধু: যদি ত্বকে সহ্য হয়, তা হলে সরাসরি মধু লাগিয়েও দেখতে পারেন৷ মধুতেও প্রাকৃতিক এমোলিয়েন্ট থাকে, জ্বালা বা লাল হয়ে ওঠার সমস্যাও কমে৷ তবে মধুতে অনেকের অ্যালার্জি হয়, সেটাও মাথায় রাখবেন৷

অ্যালো ভেরা জেল: অ্যালো ভেরা জেলের পরত ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও ইনফেকশন কমাতে সক্ষম৷ রাতে শুতে যাওয়ার আগে মোটা করে অ্যালো ভেরার পরত লাগান মুখে, ফারাকটা দেখে নিজেই চমকে যাবেন৷

হলুদ আর দইয়ের মিশ্রণ: ফুল ফ্যাট দুধ দিয়ে ঘরেই দই পেতে নিন, তার সঙ্গে মেশান থেঁতো করে নেওয়া কাঁচা হলুদ৷ আধ ঘণ্টা মেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে এই প্রক্রিয়া ট্রাই করে দেখুন৷ হলুদের কারকিউমিনে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি প্রপার্টি৷ এগজ়িমা বা সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা কমাতেও তা দারুণ কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে৷

এ সবের পাশাপাশি বেশি করে জল ও ফলের রস/ দুধ খাওয়া জরুরি৷ ক্যাফেইন, ধূমপান ও অ্যালকোহলের মাত্রা কমাতে হবে৷ খুব গরম আর খুব ঠান্ডা দুটোর থেকেই দূরে থাকার চেষ্টাও করতে হবে৷ নখ দিয়ে ত্বক চুলকাবেন না, তাতে কিন্তু সমস্যার গভীরতা বাড়ে৷
তথ্যঃ ফেমিনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য