ইউরোপ ও আমেরিকায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের হামলার পর মুসলমান ও ইসলাম বিরোধী প্রচারণা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসলাম আতঙ্ক বিস্তার এবং মুসলিম বিরোধী ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর নীরবতা থেকে মুসলিম বিদ্বেষ মনোভাবের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

বর্তমানে পাশ্চাত্যে মুসলিম বিরোধী প্রচারণা ও ইসলাম বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। এ প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে এমনকি পাশ্চাত্যের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলাম ভীতি ছড়ানোর ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, “এ প্রবণতা কেবল মুসলমানদের জন্যই বিপজ্জনক নয় একই সঙ্গে এটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্যই বিপজ্জনক। এ কারণে আমরা ধর্মের নামে ইসলাম আতঙ্ক সৃষ্টিসহ যেকোনো সহিংসতার বিরোধী।”

মোগেরিনি নিউজিল্যান্ডে সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানান। তিনি সম্প্রতি ইসলাম আতঙ্ক সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র জরুরি বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসলাম বিদ্বেষ মোকাবেলার জন্য জাতিসংঘ ও ওআইসি’র সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইউরোপ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টার নিন্দা জানালেও পাশ্চাত্যের বহু কর্মকর্তা ইসলাম আতঙ্ক ছড়ানো ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, মুসলমানদেরকে আমেরিকা প্রবেশে বাধা দেয়া উচিত। সে সময় তার ওই বক্তব্য আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।

ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আমেরিকায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিতে পারে বলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদকে এক কাতারে ফেলে একে ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদ’ নামে অভিহিত করেন।

এদিকে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস এ ব্যাপারে বলেছেন, “বিশ্বের আনাচে কানাচে মুসলিম বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে এবং আমরা এ ব্যাপারে আরো আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলাম।”
– খবর পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য