পাল্টাপাল্টি রকেট নিক্ষেপ ও বিমান হামলায় ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও হামাস।

মঙ্গলবার রাতে গাজা থেকে ছোড়া অন্তত দুটি রকেটের কারণে ইসরায়েলে বিপদ সংকেত বেজেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

সোমবার গাজা থেকে ছোড়া রকেটে ৭ ইসরায়েলি আহত হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর প্রতিক্রিয়ায় আহত হন ৫ ফিলিস্তিনি।

সংঘর্ষে হামাসসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠন ইসরায়েলের দিকে একের পর এক রকেট ছুড়তে থাকে, যার পাল্টায় গাজার বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক বিমান হামলা চালায় তেল আবিব।

মিশরের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে সোমবার রাতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা দাবি করলেও ইসরায়েল তা স্বীকার করেনি।

“যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হয়নি, লড়াই যে কোনো মুহুর্তে ফের শুরু হতে পারে,” বলেছেন উর্ধ্বতন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

দুইপক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে মঙ্গলবার সীমান্ত ছিল বেশ শান্ত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও সীমান্তে জারি করা ‘নিরাপত্তা নিষেধাজ্ঞা’ সরিয়ে নেয়।

কিন্তু রাত নামার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। গাজা থেকে অন্তত দুটি রকেট ছোড়া হয়েছে দাবি করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী গাজায় হামাসের একটি অস্ত্র কারখানা ও সামরিক কম্পাউন্ডসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে।

দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে জড়ালেও এর মাত্রা আগের দিনের চেয়ে কম ছিল বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিনের হামলায় হতাহতেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবারের ওই রকেট হামলায় কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হন। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গাজা সীমান্তে এ অস্থিরতা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য শাপেবর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার নেতানিয়াহুকে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মোকাবেলা করতে হবে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে সীমান্তে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং গোলানে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিদের তুলনায় খানিকটা এগিয়ে দেবে বলেও ভাষ্য তাদের।

“নেতানিয়াহু তার জনগণের কাছে নিজেকে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, এ কারণেই তিনি মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করছেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রুপক্ষ এটি মেনে চলে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনীগুলো এ বিরতির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” বলেছেন ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের কর্মকর্তা খাদির হাবিব।

ইসরায়েলের সঙ্গে হামাস, ইসলামিক জিহাদ ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ওই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল বলে সোমবার গাজার কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন।

বুধবার এ ব্যাপারে আরও আলোচনা হবে বলেও যুদ্ধবিরতির চেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য