স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারের তদন্তে প্রমাণ না মিললেও, প্রায় অর্ধেক মার্কিনি এখনো ২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার আঁতাত হয়েছিল বলেই বিশ্বাস করে।

দীর্ঘ ২২ মাসের অনুসন্ধান শেষে শুক্রবার ‘ট্রাম্প-রাশিয়ার সম্ভাব্য আঁতাত’ নিয়ে মুলার তার প্রতিবেদন জমা দেন। রোববার এর চার পৃষ্ঠা সারসংক্ষেপ কংগ্রেসকে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

মুলারের প্রতিবেদন ও এর সারসংক্ষেপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খানিকটা বাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সম্ভাব্য ওই ‘আঁতাত’ খতিয়ে দেখতে মার্কিন বিচার বিভাগ স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারকে দায়িত্ব দেয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে মস্কোর কোনো যোগসাজশ হয়েছিল কিনা, তার অনুসন্ধানের পাশাপাশি এ বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তদন্তে ট্রাম্প বাধা দিয়েছিলেন কিনা তদন্তে তাও খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়।

মুলারের প্রতিবেদনে ট্রাম্প-রাশিয়ার ‘আঁতাত’ নিয়ে কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানানো হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এফবিআইয়ের তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছিলেন কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার ও মঙ্গলবার হাজারো প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির ওপর জরিপ চালায় রয়টার্স ও ইপসস।

সেখানে দেখা গেছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ৪৮ শতাংশ নাগরিক ‘ট্রাম্প কিংবা রিপাবলিকান শিবিরের কেউ না কেউ রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ২০১৬-র নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিল’ বলে বিশ্বাস করে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগের সপ্তাহেই এরকম ধারণাকারীর সংখ্যা ছিল ৫৪ শতাংশ।

রয়টার্স ও ইপসসের এ যৌথ জরিপের ফল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এ জরিপে এফবিআইয়ের তদন্ত বন্ধে ট্রাম্প চেষ্টা করেছিলেন কিনা সে প্রশ্নও ছিল।

৫৩ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, তদন্ত বন্ধের চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আগের জরিপে এ বিশ্বাস ছিল ৫৫ শতাংশের।

নতুন এ জনমত জরিপে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে বিভাজনের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।

রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্রেটরাই ‘ট্রাম্প-রাশিয়া আঁতাতের’ বিষয়টি বিশ্বাস করেন বলেও এতে উঠে এসেছে।

জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খানিকটা বেড়েছে বলেও ধারণা দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে হওয়া জরিপে মার্কিন জনগণের কাছে প্রেসিডেন্টের গ্রহণযোগ্যতা ছিল ৩৯ শতাংশ; মঙ্গলবারের জরিপে এ গ্রহণযোগ্যতা আরও ৪ শতাংশের মতো বেড়েছে।

এ বছর ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ৩৭ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রেসিডেন্টকে অভিশংনে ৩৯ শতাংশের সমর্থন আছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ৪৯ শতাংশের ভাষ্য, এখনি ট্রাম্পকে সরিয়ে দেয়ার কোনো মানেই হয় না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য