যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের জনপ্রিয় একটি বাংলাদেশি রোস্তোরাঁ বর্ণবাদী গ্রাফিতির শিকার হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন রেস্তোরাঁটির মালিক ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। গত সপ্তাহে তার পরিচালিত বার্মিংহামের সোলিহাল এলাকার স্যাফ্রন টেকঅ্যাওয়ে রেস্তোরাঁটির দেয়ালে বর্ণবাদী শব্দ ‘পাকি’ বড় বড় কালো অক্ষরে প্লাস্টার করা হয়েছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের পুলিশ বর্ণবাদী ঘটনাটি তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

‘পাকি’ শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা মানুষদের বর্ণবাদী নিপীড়নে ব্যবহার করা হতো। যুক্তরাজ্য সরকার শব্দটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

১৯৮০-র দশকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য পাড়ি জমান মুজিবুর রহামন। ১৯৯৫ সালে তিনি রেস্তোরাঁটি চালু করেন। বার্মিংহামে ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বাস করছেন। বর্ণবাদী গ্রাফিতির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি হতাশ। ভয়ানক ব্যথিত। সতিকথা বলতে আমি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। যা ঘটেছে তা খুব অস্বাভাবিক।

মুজিবুর রহমান বলেন, সোলিহালে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বসা করছি। কিন্তু এমন কিছু আগে কখনও ঘটেনি। আমাদের কখনও মনে হয়নি আমরা অন্য দেশ থেকে এসেছি। এটা আমাদের দেশ।

রেস্তোরাঁয় এই গ্রাফিতি হামলা হয় ১৯ মার্চ। নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার কয়েকদিন পর এই হামলা হলো। ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের ওই হামলায় ৫০ জন মুসল্লি বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন।

ওই হামলার পর বার্মিংহামের ছয়টি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ পাঁচটি হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ম্যাট ওয়ার্ড বলেন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডে আমরা মসজিদ ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রেখেছি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। যারা ভয়, অনিশ্চিয়তা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে করা গুরুত্বপূর্ণ।

মসজিদে হামলার পর ইসলামি স্থাপনা ও যুক্তরাজ্যজুড়ে টহল জোরদার করা হয়। তবে রেস্তোরাঁয় গ্রাফিতির হামলার সঙ্গে মসজিদগুলোতে ভাঙচুরের সম্পর্ক নেই বলেই পুলিশের ধারণা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য