মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁও : তরুন লেখিকা জুই জেসমিন। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এলেই মন যেন শূন্যতায় ছমছম করে তাঁর ! মনে প্রশ্ন জাগে বিশ্বকাপ ফুটবলে- ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সের পতাকা যেভাবে বাংলার ঘরে ঘরে উড়ে, বাংলার পতাকা কি উড়ে আজও বাংলার ঘরে ঘরে, যেমনটি উড়ে ভিনদেশিদের পতাকা- ? উড়েনা! তাই এই ছোট্ট স্বপ্ন রঙ ছড়াতে তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে উঠে বাস্তবের আঙিনায়।

এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ঘরে ঘরে পৌছে দিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে তরুন লেখিকা জুই জেসমিন জাতীয় পতাকা বিতরণ করেছেন। ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচ উপজেলায় ৫ শতাধিক পতাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানায় ওই তরুন লেখিকা।

সোমবার বিকালে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও জোতপাড়া, আরাজি সরলিয়া, কালমেঘ, কাদশুকাসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে পায়ে হেটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেশের জাতীয় পতাকা বিতরণ করেন।

এ সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম, বশির উদ্দিন ও তার ছেলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সভাপতি মোকলেসুর রহমানসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সাথে ছিলেন। এদিকে পীরগঞ্জ, হরিপুর, রাণীশংকেল ও সদর উপজেলায় একই ভাবে পতাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আগামীকাল স্বাধীনতা দিবসের সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বাড়ি বাড়ি উড়বে লাল সবুজের এই পতাকা। দেশের এই পতাকা পেয়ে খুশি স্থানীয়া। ব্যতিক্রম এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও এলাকাবাসী।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মে কাছে পৌঁছাবে এবং এ প্রজন্ম আরো উৎসাহিত হবে।

মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম বলেন, পতাকা বিতরণ করা হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উড়বে এবং সন্ধ্যায় তা নামানো হবে।

জেলার পাঁচ উপজেলায় ৫ শতাধিক পতাকা বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে ওই তরুণ লেখিকা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন সময়ে ভিনদেশি পতাকা উড়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে লাল সবুজের পতাকা বাড়ি বাড়ি ওড়েনি কখনো। তাই স্বল্প পরিসরে হলেও দেশের পতাকা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে তরুণ এই লেখিকা আরো বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগামীতে আরো বড় পরিসরে করা হবে। যেন ঘরে ঘরে দেশের পতাকা ওড়ে এই স্বপ্ন দীর্ঘ দিনের। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বীজ রোপণ করা হলো।

মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে জাতীয় পতাকা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান মাসুদ মুঠোফোনে জানান, এটি নি:সন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। জাতীয় দিবসগুলোতে সরকারি, বেসরকারী ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্ব-স্ব ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পতাকা উড়লে মানুষের মনে আবেগের আবহাওয়া সৃষ্টি হবে।তরুন প্রজন্মের আগ্রহ সৃষ্টি হবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার। পতাকার প্রতি মানুষের সম্মান বৃদ্ধিসহ আগামীতে খেলাধুলার সময় মানুষ বিদেশী পতাকা উত্তোলন বন্ধ হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য