সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পল্লীতে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষ কর্তৃক মিথ্যা ও মনগড়া সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শনিবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরল উপজেলার পূর্বহালজায় গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে মোঃ কামরুজ্জামান।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, পূর্বহালজায় গ্রামের কৃষ্ণকড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির অন্যের প্ররোচনায় হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

পূর্বহালজায় গ্রামের কিছু স্বার্থন্বেষী মহল কর্তৃক আমাদের পিছনে লেলিয়ে দেওয়া শান্তি প্রিয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ভাই-বোনদের অত্যাচার নীরবে সহ্য করে চলেছি। তাদের দিয়ে গাছের ফল পাড়া, বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়া, জমির ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যায় আবদার তো আছে। প্রতিবাদ করলে অকষ্য ভাষায় গালিগালাজসহ গায়ে হাতও দেয়। হুমকি দিয়ে বলে, ‘জানিস আমাদের পিছনে কে আছে? সিডিএ’র পরিচালক ‘জিন্নাহ স্যার’, কুদ্দুস স্যার আছেন। এক্ষুনি ফোন করলে জিন্নাহ স্যার ও কুদ্দুস স্যার পুলিশ পাঠাবে জেল হাজতের ভাত খাওয়াইয়ে ছাড়বো।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা একজন শিক্ষ ছিলেন। তাই লজ্জা ও সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে পারি না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ভাইবনোদের লেলিয়ে দিয়ে তারা সংখ্যা গরিষ্ঠদের সাথে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভেঙ্গে মিথ্যা উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র করছে।

ফলশ্রুতিতে অসহায় মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সেই টাকা দিয়ে চলে কুদ্দুস চার চাকা ও বাবুগিরি।

তিনি উল্লেখ করেন, হালজায় গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের সময় প্রায় ২ লক্ষ টাকা বড় নেতা ও বিদ্যুৎ বিভাগের বড় কর্তাদের দেনে বলে প্রায় ৮০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় এই কুদ্দুস। যা সরেজমিনে তদন্ত কলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। এই কুদ্দুস নৌ-প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে অন্যায় ভাবে মানুষকে কোণঠাসা করে হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থ।

এতে করে সরকারের ভাব-মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। দেশ-বিদেশে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এগুলো যদি বন্ধ না হয়, তাহলে খুব শিঘ্রই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষগুলো ফুসে উঠবে।

জিন্নাহ সম্পর্কে একটু বলতে চাই, শ্রুতি রয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, হত্যা করেছিল দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, ধর্ষিত হয়েছিল অসংখ্য মা-বোন সে আজ দেশ দরদী জিন্নাহ। এই নন বেঙ্গলি ব্যক্তিকে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে আমরা দাবি করছি।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণকড়া দাবি করেছে, ৫২ একর জমি আমরা দখল করে খাই। আসলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ১৮৮১ দাগের ৭১ শতকের মধ্যে ৬০ শতকের বৈধ মালিক আমি।

আর ১১ শতকের মালিক আমার চাচা আব্দুল মান্না। ইতিপূর্বে কৃষ্ণকড়া আসামীগণ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি বেআইনীভাবে অনুপ্রবেশ করে নালিশী সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করলে আমি গত ২০১৮ সালের ১ আগষ্ট কৃষ্ণকড়াসহ আসামীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-৪ (বিরল) দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/ ১৪৭/ ৪২৭/ ৩৭৯/ ৫০৬/ ১১৪/ ৩৪ ধারা মতে ২৫৭/সি/২০১৮ নং মামলা আনয়ন করি। অতঃপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আসামীগণ উক্ত ঘটনা অবগত হয়ে পুনরায় নালিশী সম্পত্তিতে বেআইনিভাবে দাবী উত্থাপনে জবরদখল করার চেষ্টা করে। আমি কৃষ্ণকড়াসহ আসামীদের বিরুদ্ধে বিরল সহকারী জজ আদালতে ০৮/২০১৯নং ইনজেকংশন মোকদ্দমা আনয়ন করি এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রাপ্ত হই।

অতঃপর মোকদ্দমায় আসামীদের বিরুদ্ধে নালিশী সম্পত্তিতে স্থিতিবস্থার আদেশ পাওয়ার পরেও আসামীগণ আমার আলু ক্ষেত, সরিষা ক্ষেত ও প্রাচীরের ক্ষতিসাধন করলে আমি আসামীগণের বিরুদ্ধে ০২/২০১৯ নং (ভাইয়োলেশন) মোকদ্দমা আনয়ন করি। যা বর্তমানে দিনাজপুর জেলা যুগ্ম জ আদালত (বিরল) বিচারাধীন রয়েছে।

চলতি বছরের ৬ মার্চ সকাল ১১টায় আমি ও আমার ছোট ভাই গোলাম কিবরিয়া তার ব্যবহৃত হিরো হোন্ডা সিডি ডিলাক্স মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি ও আমার ভাই গোলাম কিবরিয়া তামু, মোশারফসহ নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে ঘেরা বেড়া ইটের প্রাচীর (কৃষ্ণকড়া ও তার লোকজন কর্তৃক ভাংচুরকৃত) মেরামত করাকালীন কৃষ্ণকড়ার হুকুমে ছাতলকড়া, লাপলকড়া, কেদুকড়াসহ ১৪/১৫ জন লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড, ধারালো ছোরা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

এসময় কৃষ্ণকড়া এই বলে নির্দেশ দেয় যে, বেটাদের জীবন শেষ করে দাও। এসময় আমার ছোট ভাই গোলাম কিবরিয়ার মোটরসাইকেলটি ভাংচুর ও আমার পেটে ছুরি ধরে ৩টি ১০০ টাকার অলিখিত নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।

আমার পকেটে থাকার ব্যবসার ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার ছোট ভাই গোলাম কিবরিয়াকে লোহার রড দিয়ে মেরে জখম করে। এসময় আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে কৃষ্ণকড়া ও তার লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় এই বলে হুমকি দিয়ে যায় যে, এরপর আমরা জমিতে আসলে জীবনে মেরে ফেলবো।

আমি নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ এমপিসহ প্রশাসনের নিকট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন, নাজমুল ইসলাম, তৈমুর ইসলাম, খান আশিক ও ওয়ারেশ হোসেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য