কাশ্মীরে একদিনে চারটি আলাদা আলাদা সংঘর্ষে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের ৭ সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরে একদিনে জঙ্গিদের সঙ্গে এতগুলো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নিহত ৭ জঙ্গি পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য, বলছে পুলিশ।

চারটি সংঘর্ষের মধ্যে তিনটিই বন্দুকযুদ্ধ, যার একটি পাকিস্তান সীমান্তের কাছে উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলায় হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

সংঘর্ষগুলোর একটি শুরুর আগে লস্কর-ই-তৈয়বার দুই সদস্য ১২ বছর বয়সী এক বালককে অপহরণের পর হত্যা করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পরে ওই দুই লস্কর সদস্যও মারা যায়।

এ জঙ্গিগোষ্ঠীটির সদস্যরা পাকিস্তান থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এসে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের হয়রানি করে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।

ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখের পর থেকে এ নিয়ে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে ২২ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে নয়া দিল্লি।

পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের গত মাসের আত্মঘাতী হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আকাশ ছোঁয়।

ওই হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হয়েছিলেন।

নয়া দিল্লি এর পাল্টায় পাকিস্তানের বালাকোটে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে’ বিমান হামলা চালালে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ওই সময়ে কয়েকদফা গোলা বিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ঘটনা ঘটলেও আন্তর্জাতিক চাপ দেশদুটির উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখে।

ভারত তারপর থেকেই কাশ্মীরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান বাড়িয়ে দেয়। জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে অনেককে আটকও করে তারা।

শুক্রবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আরেকটি সংগঠন জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। চলতি মাসে পুলিশ সংগঠনটির সভাপতি ইয়াসিন মালিককে আটক করে।

সন্দেহভাজন জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার যে আইনে মালিককে আটক করা হয়েছে, সে আইনে দুই বছর পর্যন্ত অভিযোগ ছাড়াই কাউকে বন্দি রাখা যায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।।

পুলিশের হেফাজতে বেসরকারি একটি স্কুলের শিক্ষক রিজওয়ান আসাদ পন্ডিতের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার কাশ্মীরজুড়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচিও ডেকেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ শ্রীনগরে মানুষ ও যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে।

রিজওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ‘জঙ্গি মামলার তদন্তে’ আটক এ যুবক জেল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি তাদের।

রিজওয়ানের ভাই জুলকারনাইন সহোদরের মৃত্যুর জন্য পুলিশের নির্যাতনকেই দায়ী করেছেন। রিজওয়ানের বিরুদ্ধে পুলিশের আনা ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য