আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বুড়িমারী স্থল বন্দরটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম স্থল বন্দর হিসাবে পরিচিত। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা থেকে এর দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। ভারত ভূটান এবং নেপালের সাথে স্থল পথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার জন্য এই বুড়িমারী এলাকার জিরো পয়েন্টে এই বন্দরটি ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে চালু করা হয়। ফলে প্রতি দিন হাজার হাজার ট্রাক আর শত শত যাত্রী এই স্থল বন্দর দিয়ে চলাচল করে।

যে কারণে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি যত বাড়ছে ততই বাড়ছে যানবাহনের চাপ। আর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এর ফলে ব্যাহত হয় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এ সমস্যা মোকাবিলায় কয়েক বছর আগে বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার চার লেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।

এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এরই মধ্যে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য এডিবির বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে। ওই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০ লেন সড়ক নির্মাণ কাজ রহস্য জনক কারণে শুরু না হওয়ায় যানজটের চাপে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। এ নিয়ে স্থল বন্দর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বুড়িমারীতে শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বুড়িমারীতে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালের ৩০ মার্চ এ শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হয়। এই বন্দর দিয়ে ভারত, ভূটান ও নেপাল থেকে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিক সামগ্রী, পশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বিভিন্ন ধরণের বীজ, তামাক ডাটা প্রভৃতি মালামাল আমদানী করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় মেলামাইনের তৈরি বাসনপত্র এবং ঔষধসহ কতিপয় মালামাল। গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের এ বন্দর দিয়ে ২০ হাজার ট্রাক পণ্য রফতানি করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত ও ভুটান থেকে প্রায় ৩৮ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০১-১৭ অর্থবছরে বুড়িমারী দিয়ে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক পণ্য রফতানি ও ৩৭ হাজার ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ ট্রাক বন্দরে আসা-যাওয়া করে।

এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যাপ্ত সড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। এছাড়া বর্তমানে যে সড়ক আছে তা খাল খন্দে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটের চাপে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানী থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ কাজের দ্বিতীয় পর্যায় চলমান রয়েছে। এ কাজের সঙ্গেই স্থল বন্দরের ১০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। ১০ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। এছাড়া তৃতীয় দফায় রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক ফোর লেন কার্যক্রম ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক ও পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রহুল আমিন বাবুল বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা ও ভুটানের ফুলসিলিং স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রফতানি ক্রমে বাড়ছে। এতে গাড়ির চাপ বাড়ায় বন্দরে যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে আমদানি-রফতানি করতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। জরুরী ভিত্তিতে এ মহাসড়কে চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

বুড়িমারী শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি আউয়াল আলী বলেন, তীব্র যানজটের কারণে প্রতি নিয়ত অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট থেকে ১০ কিলোমিটার রাস্তা ৪ লেন করা প্রয়োজন। কিন্তু কি কারণে কার্যক্রম থেমে আছে তা জানি না। এছাড়া বর্তমানে যে সড়ক আছে তা খাল খন্দে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

লালমনিরহাট সওজর নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়েন বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট থেকে ১০ কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা মূল্যায়ন কাজ শেষ হয়েছে। ২৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদন হলে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য