সরকারী নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অমান্য করে দিনাজপুরের অধিকাংশ হিমাগারগুলোতে ৫০ কেজি’র বেশি ওজনের আলুর বস্তা রাখা হচ্ছে। বেশি ওজনের বস্তা লোড-আনলোড করতে মারাত্মক শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে শ্রমিকদেরকে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ৭৪ ধারা এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’র ৬৩ বিধি মোতাবেক শ্রমিকদের ৫০ কেজির অধিক ওজন বহন করা সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। ২০১৮ সালেও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ৫০ কেজির অধিক ওজন বহন করানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরে বৃহত্তর দিনাজপুরের ২৮টি হিমাগারকে শ্রমিক দিয়ে ৫০ কেজির অধিক ওজন বহন না করতে চিঠি দেয় দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। না মানলে মামলা দেয়ার হুশিয়ারী দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে বাস্তবে এই নির্দেশনার কোন প্রতিফলন হয়নি। নিষেধাজ্ঞার পরেও দিনাজপুরের অধিকাংশ হিমাগারগুলোতে প্রবেশ করানো হচ্ছে ৫০ কেজির অধিক ওজনের বস্তা।

এলাকার কৃষকরা জানায়, একটি বস্তাতে যত বেশি রাখা যাবে ততই লাভ। তবে ৫০ কেজির বেশি ওজনের বস্তা রাখা যাবে না এমনটি জানা নেই। হিমাগার থেকেও তাদেরকে এমনটি জানানো হয়নি।

কৃষকরা বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই তো হিমাগারে আলু রাখি এমন তো কোন কথা উঠেনি। যদি বেশি ওজনের বস্তা নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমরাও চাই না বেশি ওজনের বস্তা রাখতে।

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানান হয়, বস্তা ছোট করলে কাজ করতে সুবিধা হতো। এ ব্যাপারে যদি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাহলে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ পাবেন না হলে বয়সের আগেই কাজ করা বাদ করে দিতে হবে।

এদিকে, হিমাগারের অনেকে বলছেন, কৃষকরা বড় বস্তা ছাড়া দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই বড় বস্তা নিতে হচ্ছে। তবে এই বড় বস্তার সংখ্যা অনেক কম।

আবার অনেকে বলছেন, ‘এবারে ৫০ কেজি ওজনের বেশি বস্তা নেয়া যাবে না এই বিষয়টি কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হয়েছে। তবে এটি অনেক হিমাগার মানছে না, তাতে করে বাধ্য হয়েও তারা বেশি ওজনের বস্তা নিচ্ছেন। নাহলে তাদেরকে লোকসানে পড়তে হবে। তবে পর্যায়ক্রমে এই নিয়মটি পালন করা হবে।

দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫০ কেজি ওজনের বেশি বস্তা রাখা যাবে না এজন্য হিমাগারগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন হিমাগারে পরিদর্শন করা হচ্ছে। অসঙ্গতিতে পেলে বিভাগীয় শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। যেই হিমাগারই হোক অসঙ্গতি পেলে মামলা দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অধীনে ৩টি জেলায় মোট হিমাগার রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১২টি করে ২৪টি এবং পঞ্চগড়ে ৮টি হিমাগার রয়েছে। আর এসব হিমাগারে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য