বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভূট্টাচাষীদের চোখে মুখে হাসির ঝলক লক্ষকরা গেছে। কিন্তু বাজার মুল্য নিয়ে অনেক চাষীদের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিরামপুরে আলুর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে ভূট্টাচাষ অত্র উপজেলার পৌরসভা, পলিপ্রয়াগপুর, মুকুন্দপুর, কাটলা ইউনিয়নের ছোট যমুনা নদীর দু’ধারের চরে চাষীদের কাছে অনেক আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অল্প খরচেই বেশী লাভবান হওয়ায় অত্র এলাকার চাষীরা বোরো চাষ না করে ভূট্টাচাষ করে থাকেন। কৃষি প্রনোদনার বীজ, সার ও পরামর্শে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশী মুনাফা পেতে চলতি মৌসুমে অত্র উপজেলার উচুঁ ও মাঝাড়ি বেলে দোঁআশ মাটিতে ব্যাপক ভূট্টার চাষ হয়েছে।

উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পূর্বপারের ভুট্টাচাষী হরিহরপুর গ্রামের মিরাজুল ইসলাম বলেন আমি, আমার ভাই ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও জামাতি ইসলামসহ আমরা তিন ভাই ছোট যমুনা নদীর ধারে আলুর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে পাঁচ একর জমিতে ভূট্টার চাষ করেছি। এ ছাড়া সবাই যার যার জমিতে। দউচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে এসিআই ডন ১১ জাত, এসিআই ডন ১২ জাত, কাবারি ৩৬৯৬ জাত, কাবারি প্রফিট জাত, কাবারি ১০০ জাত ও গডফাদার জাতের ভূট্টার চাষ করেছি।

হরিহরপুর গ্রামের আজিজার রহমান জানিয়েছেন, কাবারি জাতের উচ্চ ফলনশীল ভূট্টাচাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি ৩৩ শতাংশের বিঘাই ৪০থেকে ৪৫ মন পর্যন্ত ফলন পাবেন। কিন্তু তিনি সদ্য সমাপ্ত আমন ধানের নুন্নতম বাজার মুল্য নিয়ে কৃষকের সংশয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, চাষীরা ধান চাষে ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে মুলধন হারিয়েছেন। তেমনি ভূট্টাচাষ করে চাষীরা ন্যায্য বাজার মুল্য নিয়ে বিপাকে পড়েবে নাতো?

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক ভুট্টা চাষীরা জানান, কৃষি প্রণোদনার প্রাপ্ত ভুট্টা বীজ কোহিনুর জাত নিম্নমানের বীজ। যা চাষকরে বিগত মৌসুমে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। কোহিনুর ভুট্টা বীজের, বাজার মুল্য নিয়েও তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাজারে উচ্চ ফলনশীল হিসেবে কৃষকরা এসিআই ডন ১১ ও ১২, কাবারি ৩৬৯৬, কাবারি ১০০, কাবারি প্রফিট ও গডফাদার জাত বীজের বাজার মুল্য বেশীর কারণ হিসেবে ফলন বেশীর কথা উল্লেখ করেছেন।

চলতি মৌসুমে বাজারে প্রতিকেজি বীজ কাবারি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, এসিআই ডন ৪৫০থেকে ৪৭০ টাকা মুল্যে কৃষক ক্রয় করে চাষ করেছেন। সেখানে প্রতি ৩৩ শতাংশের বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মন ফলন হওয়ায় বাজারে প্রতিকেজি কোহিনুর বীজ বিক্রয় হয়েছে ১১০ থেকে ১২৫ টাকা। চলতি মৌসুমে বিরামপুর উপজেলার কৃষি অফিস কর্তৃক সরকারি ভাবে বিতরণকৃত কৃষিপ্রণোদনার ভুট্টা বীজ কোহিনুর ছিল বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃিষ কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, অত্র মৌসুমে বিরামপুর উপজেলায় সরকারী কৃষি প্রণোদনা ও কৃষকদের নিজেস্ব্য উদ্যোগে ৬’শ পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে ভূট্টাচাষ হয়েছ। অত্র উপজেলায় চাষীদেরড় মাঝে ভুট্টা চাষ দিন দিন লাভজনক ফসল হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য