ধূমপান যে স্বস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, সে কথা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। সিগারেটের নেশা থাকলে ক্যানসার, সিওপিডি ছাড়াও ফুসফুসের আরও বিভিন্ন অসুখের আশঙ্কা বাড়ে, সে তথ্যও মোটামুটি সবারই জানা।

তাই সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করছেন এবং নানা পদ্ধতি ট্রাই করার পর ঠিক করেছেন ভরসা রাখবেন ই-সিগারেটের উপর? জেনে রাখুন, ই-সিগারেট কিন্তু আরও বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমস এতটাই বিপজ্জনক বিশ্বের 36টি দেশে তার বিক্রি নিষিদ্ধ হয়েছে, ভারতেরও অন্তত 12টি রাজ্যে ই-সিগারেটের বিক্রিবাটা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এতদিন পর্যন্ত ই-সিগারেট বা ই-হুকার নির্মাতারা বলতেন যে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এর ক্ষতিকারক দিকগুলির কথা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু অতি সম্প্রতি ভারত সরকার নিয়োজিত একটি প্যানেল অভিমত প্রকাশ করেছে, এই ধরনের প্রডাক্টগুলি যে স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং যে কোনও তামাকজাত উপাদানের সঙ্গে কার্যত তার কোনও পার্থক্য নেই।

সরকারি উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল এই প্যানেল এবং, দেশের সেরা চিকিৎসাকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির পেশাদাররা যুক্ত ছিলেন তার সঙ্গে।

সর্বসম্মতিক্রমে তাঁরা মেনে নিয়েছেন যে, যাঁরা ধূমপান ছাড়ার জন্য এই ধরনের ডিভাইসের সাহায্য নিচ্ছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে এতেই আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন।

এর ফলে কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা হতে পারে, থেকে যায় ফুসফুস ও গ্যাস্ট্রোইন্টেসটিনাল রোগের আশঙ্কাও। গর্ভবতী মহিলারা ই-সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়লে গর্ভপাতের আশঙ্কাও রয়ে যায়।

আরও বড়ো সমস্যা হচ্ছে, প্রচুর অল্পবয়সি ছেলেমেয়ে ধূমপান না করলেও ভেপিং বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন এর ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য