ইতালিতে ৫১ স্কুল শিক্ষার্থীসহ একটি বাস ছিনতাই করে শিশুদের ভেতরে রেখেই তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে।

আগুনের মধ্যেই বাসের পেছনের জানালা ভেঙে বেঁধে রাখা কয়েকটি শিশুসহ স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কেউই গুরুতর আহত হয়নি। ধোঁয়ায় ১৪ জনের শ্বাসনালীতে সামান্য সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সেনেগাল বংশোদ্ভূত ৪৭ বছর বয়সী ইতালিয়ান চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

“কেউ বাঁচতে পারবে না,” আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর বাসচালক এমনটা বলেছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিশুদের বেঁচে যাওয়ার এ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন মিলানের প্রধান কৌঁসুলি ফ্রান্সেসকো গ্রেকো।

“এটা অলৌকিক কিছু ছিল, এটা হতে পারতো ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ড,” বলেছেন তিনি।

আটক বাসচালকের নাম অউসেনৌ সি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইতালির অভিবাসন নীতি ও ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এ চালক ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে বাসটিতে থাকা এক শিক্ষক জানিয়েছেন।

“তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন- ‘সমুদ্রে মৃত্যু থামাও, আমি একটি গণহত্যা চালাব’,” বলেছেন পুলিশের মুখপাত্র মার্কো পালমিরা।

সন্দেহভাজন এ বাসচালকের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণহত্যার চেষ্টা, আগুন ধরিয়ে দেয়া ও গ্রেপ্তার ঠেকানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।

অউসেনৌর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনার বিষয়টি কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, জানিয়েছেন গ্রেকো।

আটক এ বাসচালকের বিরুদ্ধে আগেও হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ থাকায় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্বপরিচিত, জানিয়েছেন মিলানের পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগের প্রধান আলবার্তো নবিলি।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অউসেনৌর বাসটি ভাইলাতি দি ক্রিমা স্কুল থেকে দুটি আলাদা শ্রেণির কিশোর-কিশোরি ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সুপারভাইজারদের নিয়ে একটি জিমনেসিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ছিল; পথে আচমকাই রুট পরিবর্তন করেন চালক।

বাসটিকে অউসেনৌ মিলানের লিনেট বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

৪৭ বছর বয়সী চালক যখন ছুরি হাতে যাত্রীদের হুমকি দিচ্ছিলেন, তখনই বাসের ভেতর থাকা এক ছেলে ফোনে তার বাবা-মাকে ঘটনার কথা জানায়।

ওই ছেলের বাবা-মাই পরে পুলিশকে বাসটি ছিনতাইয়ের খবর দেয়।

কর্মকর্তারা এরপর চলন্ত বাসটিকে থামানোর চেষ্টা করলে সেটি পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িকে ধাক্কা মেরে গতি হারায়।

বাসটি থামার পর অউসেনৌ লাফ দিয়ে নেমে আগে থেকেই পেট্রল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসে আগুন ধরিয়ে দেন।

পুরোপুরি ভস্মীভূত হওয়ার আগেই পুলিশ বাসটির পেছনের জানালা ভেঙে ভেতর থাকা যাত্রীদের বের করে আনে।

আটক বাসচালকের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গুরুতর অপরাধের জন্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার ও তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সহজ করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপের এ দেশটিতে ডিক্রি জারি হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য